ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা এবং এ-সংক্রান্ত সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি।
শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে বালালি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কোনো খাত নিয়েই তাদের উদ্বেগ নেই। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা ও বিভিন্ন উপাদান দেশেই তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে এসব উপাদান রপ্তানি করার সক্ষমতাও ইরানের রয়েছে বলে জানান তিনি।
বালালির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। দেশটির সামরিক প্রয়োজন ও যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা গড়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা তৈরি করার পাশাপাশি সেগুলোর উন্নয়নেও ইরান ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ইরান এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন আইআরজিসির এই কর্মকর্তা।
বালালি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইরান আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন উৎপাদন এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতেও অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে সাম্প্রতিক বক্তব্যে বালালি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে ‘পরিপক্ব’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন কৌশল আয়ত্তে আসার পর নিজেদের সামরিক প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও উদ্বেগের মধ্যেই আইআরজিসির পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য এলো। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বালালি দাবি করেছিলেন, প্রয়োজন হলে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এবং চাপ অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি নথিতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের বিষয়ে উদ্বেগ এবং সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







