News Ticker
221.png

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ে মুখোমুখি লুলা-ফ্লাভিও

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৭

শেয়ার

শেয়ার

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ে মুখোমুখি লুলা-ফ্লাভিও
ছবি: সংগৃহীত

লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলে আজ, ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই জমে উঠেছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে। সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে দুজনের ব্যবধান খুবই কম। ফলে প্রথম দফার ভোটে কে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। 

৮০ বছর বয়সী লুলা এবার চতুর্থবারের মতো, তবে ধারাবাহিক নয়—প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন। অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং ব্রাজিলের ডানপন্থি রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

ব্রাজিলের এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা আইনসভার সদস্য, গভর্নর ও সিনেটরও নির্বাচন করবেন। 

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হবে। সেই দ্বিতীয় দফার ভোটের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে ২৫ অক্টোবর।

নির্বাচনের আগের শেষ দিকের জরিপগুলোতে লুলা ও ফ্লাভিওর মধ্যে ব্যবধান এতটাই কম যে অনেক ক্ষেত্রেই সেটিকে পরিসংখ্যানগতভাবে ‘টেকনিক্যাল টাই’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩ অক্টোবর প্রকাশিত Quaest জরিপে বৈধ ভোটের হিসাবে লুলার সমর্থন ৪৬ শতাংশ এবং ফ্লাভিওর ৪৫ শতাংশ। জরিপটির ভুলের সীমা ছিল ২ শতাংশ পয়েন্ট। ৩ হাজার ৭০২ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য লড়াইয়েও দুই প্রার্থী কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন। 

অন্যদিকে সর্বশেষ Datafolha জরিপে প্রথম দফায় ফ্লাভিও ৪৬ শতাংশ এবং লুলা ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। অর্থাৎ বিভিন্ন জরিপে কখনো লুলা, কখনো ফ্লাভিও সামান্য এগিয়ে থাকলেও কোনো জরিপেই বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে না। 

লুলা ব্রাজিলের রাজনীতির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদ প্রেসিডেন্ট থাকার পর ২০২৩ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরেন। এবার জয়ী হলে ধারাবাহিক নয়—এমন চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে তাঁর।

নির্বাচনী প্রচারে লুলা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু, ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। চীনের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনাও তাঁর প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। তাঁর প্রার্থিতা মূলত ব্রাজিলের ডানপন্থি বলসোনারো পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা বলেছেন। অন্যদিকে তাঁর বাবা জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর ক্ষমতা ধরে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

ফ্লাভিও নির্বাচনী প্রচারে তাঁর বাবার মুক্তির বিষয়টিও সামনে এনেছেন। পাশাপাশি ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর বাবার বিতর্কিত অবস্থানের প্রতিধ্বনিও তাঁর প্রচারে দেখা গেছে। 

আজকের ভোটে শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনই হচ্ছে না। ব্রাজিলের ৫১৩ সদস্যের চেম্বার অব ডেপুটিজ, ফেডারেল সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য, রাজ্য গভর্নর এবং রাজ্য আইনসভার সদস্যদেরও নির্বাচন করা হবে। ফলে এবারের ভোটের ফল দেশটির পরবর্তী সরকারের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনী প্রচারে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জননিরাপত্তা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ভোটারদের একটি অংশ দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করলেও তৃতীয় কোনো প্রার্থী এখন পর্যন্ত লুলা-ফ্লাভিওর কাছাকাছি জনপ্রিয়তা তৈরি করতে পারেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফায় লুলা ও ফ্লাভিওর কেউ ৫০ শতাংশ পার করতে না পারলে ২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনই হবে মূল লড়াই। সেক্ষেত্রে আজকের ভোট মূলত নির্ধারণ করবে—কে প্রথম দফায় এগিয়ে থাকছেন এবং দ্বিতীয় দফার জন্য কার হাতে কতটা রাজনৈতিক শক্তি থাকবে। 

ব্রাজিল শুধু লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশই নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতি। ফলে এবারের নির্বাচনের প্রভাব দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাইরেও পড়তে পারে।

নতুন সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক, বাণিজ্য, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং গ্লোবাল সাউথের রাজনীতিতে ব্রাজিলের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

ChannelNRB Footer