ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরমান প্রদেশের সিরজান এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে চারটি সংগঠিত নাশকতা নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে কেরমান প্রদেশের সিরজান কাউন্টিতে এসব নেটওয়ার্কের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ইরানি মন্ত্রণালয়ের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চারটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের সদস্য। এসব নেটওয়ার্ককে এমন কিছু নামে সংগঠিত করা হয়েছিল, যা কিশোর ও তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারে। তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন বিক্ষোভ বা অস্থিরতার আহ্বানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ মলোটভ ককটেল তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পাশাপাশি শহরের নজরদারি ক্যামেরা অকার্যকর বা ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন সরঞ্জামও তৈরি করা হচ্ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইরানি গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় আরও অভিযোগ করেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটিতে সংঘটিত অস্থিরতার সময় সহিংসতা ও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই সময় একটি গভর্নরেট ভবনে আগুন দেওয়া, ব্যাংক ও সরকারি স্থাপনায় হামলা, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা, শহরের নজরদারি ক্যামেরা ও ভবন ভাঙচুর এবং অস্ত্র নেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি পুলিশ স্থাপনায় হামলার মতো ঘটনা ঘটেছিল।
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে এই সম্পৃক্ততার অভিযোগটি ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি; প্রকাশ্য প্রতিবেদনে এর স্বাধীন কোনো যাচাই বা সংশ্লিষ্ট যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:







