News Ticker
221.png

বন রক্ষায় প্রায় দেড় লাখ গাছ কাটতে যাচ্ছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৬

শেয়ার

শেয়ার

বন রক্ষায় প্রায় দেড় লাখ গাছ কাটতে যাচ্ছে ভারত
ছবি: সংগৃহীত

বন রক্ষায় ভারতের মধ্যপ্রদেশে প্রায় দেড় লাখ শালগাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গাছগুলো কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নয়; ভয়ংকর ‘সাল বোরার’ পোকার আক্রমণ ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দিন্দোরি জেলার আক্রান্ত গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। 

মধ্যপ্রদেশের দিন্দোরি ও পার্শ্ববর্তী অনুপপুর জেলার অমরকণ্টক অঞ্চলে শালগাছে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে Hoplocerambyx spinicornis নামের এই ক্ষতিকর পোকা। বন বিভাগের আশঙ্কা, আক্রান্ত গাছগুলোতে পোকা বংশবিস্তার করলে সংক্রমণ দ্রুত আশপাশের সুস্থ গাছেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বড় ধরনের বন বিপর্যয় ঠেকাতে আক্রান্ত গাছ সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের দিন্দোরি জেলায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৪টি আক্রান্ত শালগাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনুপপুর জেলার অমরকণ্টক এলাকায় আরও ৯ হাজার ৫৩৫টি শালগাছ কাটার অনুমোদন রয়েছে।

অর্থাৎ দুই এলাকায় মিলিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩১৯টি শালগাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

দিন্দোরিতে অবশ্য ইতোমধ্যে কাটার কাজ শুরু হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার গাছ কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছে Down To Earth। বন বিভাগ জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পর্যায়ক্রমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে এবং আগামী বছরের মার্চের মধ্যে দিন্দোরির নির্ধারিত গাছ কাটার কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘সাল বোরার’ শালগাছের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি পোকা। পূর্ণবয়স্ক পোকা গাছের বাকলে ডিম পাড়ে। পরে ডিম থেকে বের হওয়া লার্ভা গাছের কাণ্ডের ভেতরে প্রবেশ করে কাঠের অংশ খেতে থাকে এবং সেখানে সুড়ঙ্গ তৈরি করে।

এর ফলে গাছের ভেতরে পানি ও পুষ্টি পরিবহনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে আক্রান্ত গাছ দুর্বল হয়ে শুকিয়ে মারা যেতে পারে।

পোকার বিস্তার ঠেকাতে মধ্যপ্রদেশের বন বিভাগ গাছ কাটার পাশাপাশি পোকা ধরার অভিযানও চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রতিটি সাল বোরার পোকা ২ রুপি করে কিনছে বন বিভাগ।

দিন্দোরিতে এ কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ লাখ ২৫ হাজার পোকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। পোকা সংগ্রহে স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষও অংশ নিচ্ছেন। 

এ ছাড়া আক্রান্ত গাছকে ‘ট্র্যাপ ট্রি’ হিসেবে ব্যবহার করে পোকা আকৃষ্ট ও সংগ্রহের পদ্ধতিও নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দিন্দোরির কারাঞ্জিয়া রেঞ্জে পোকার আক্রমণ সবচেয়ে বেশি। জেলার আক্রান্ত গাছের প্রায় ৯০ শতাংশই এই এলাকায় রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

আক্রান্ত গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্তকে ঘিরে পরিবেশবিদ ও বন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের সাবেক প্রধান প্রধান বন সংরক্ষক (PCCF) রাম প্রসাদ প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় পরিসরে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও পরিবেশগত মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না।

তার মতে, শুধু পোকা দমনের বিষয় হিসেবে না দেখে পুরো বন-বাস্তুতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে সমস্যাটি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বন কাঠামো, দাবানল, অতিচারণ, মাটির ক্ষয় এবং প্রাকৃতিকভাবে নতুন গাছ জন্মানোর হার—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। 

বন কর্মকর্তাদের মতে, সাল বোরারের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রায় ৩০ বছর পরপর দেখা দিতে পারে। এর আগে ১৯৯৭ সালের দিকে এ ধরনের বড় আক্রমণ দেখা গিয়েছিল। ২০২৬-২৭ সালে পোকার সংখ্যা ফের বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও আগে জানিয়েছিলেন বন কর্মকর্তারা। 

ChannelNRB Footer