কেনিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী। শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোররাতে রাজধানী নাইরোবি থেকে উপকূলীয় শহর মোম্বাসাগামী মহাসড়কের সালামা এলাকায় একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষে এ প্রাণহানি ঘটে।
কেনিয়ার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত ১২টার পর মাকুয়েনি কাউন্টির সালামা এলাকার ম্লিমা কিউ অংশে। দুর্ঘটনায় তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি ১৪ আসনের টয়োটা হায়েস ভ্যানসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন জড়িয়ে পড়ে। ভ্যানটির চালক ও ১৬ যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত যাত্রীদের বেশিরভাগই নারী ছিলেন।
নিহতরা মোম্বাসার মিকিন্দানি এলাকার সেন্ট ম্যাথিয়াস মুলুম্বা ক্যাথলিক প্যারিশের সদস্য ছিলেন। তারা নাকুরু কাউন্টির সুবুকিয়া ন্যাশনাল শ্রাইনে জাতীয় প্রার্থনা দিবসে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। ধর্মীয় এই আয়োজনটি কেনিয়ার ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক সমাবেশ।
দুর্ঘটনার পর মোম্বাসার ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতদের আত্মার শান্তি এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু হয় এবং পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোম্বাসামুখী একটি ট্রাক সামনে থাকা আরেকটি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর সেটি অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তীর্থযাত্রী বহনকারী ভ্যানটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে সুলতান হামুদ সাব-কাউন্টি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলোও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কেনিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি অথরিটি (NTSA) দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি বহুমুখী তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। যানবাহনের রোডওয়ার্থিনেস, আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।
NTSA জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটি আগে থেকেই একটি ‘ব্ল্যাক স্পট’ বা দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। তদন্ত চলাকালে চালকদের বিপজ্জনক ওভারটেকিং এড়ানো, লেন মেনে চলা এবং সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। তিনি নিহতদের পরিবার, স্বজন, সংশ্লিষ্ট প্যারিশ এবং পুরো ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি কেনিয়ায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির ব্যস্ত মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সড়কের অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন:







