News Ticker
221.png

ভেঙে পড়ল ৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৪

শেয়ার

শেয়ার

ভেঙে পড়ল ৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত প্রাকৃতিক স্থাপনা হোলে সি আর্চ (Hōlei Sea Arch) ভেঙে পড়ে প্রশান্ত মহাসাগরে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ৫৫০ বছর আগে আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে গড়ে ওঠা এই প্রাকৃতিক পাথুরে খিলানটি ছিল হাওয়াইয়ের অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ। 

হাওয়াই দ্বীপের হাওয়াই ভলকানোস ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত হোলে সি আর্চটির উচ্চতা ছিল প্রায় ৯০ ফুট বা ২৭ দশমিক ৪ মিটার। এটি ‘চেইন অব ক্রেটার্স রোড’-এর শেষ প্রান্তে সমুদ্রের খাড়া পাথুরে উপকূলের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। বহু বছর ধরে পর্যটকদের কাছে এটি ছিল ছবি তোলার অন্যতম জনপ্রিয় স্থান।

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (NPS) জানিয়েছে, হোলে সি আর্চটি ঠিক কখন ধসে পড়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খিলানটি দাঁড়িয়ে ছিল এবং ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। 

ওই সময় এলাকাটি ট্রপিক্যাল স্টর্ম নোলো-র কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। ফলে ঝড়ের সময়ই খিলানটি সমুদ্রে ভেঙে পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঝড়ই সরাসরি ধসের কারণ—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

হোলে সি আর্চ কোনো মানুষের তৈরি স্থাপনা ছিল না। প্রায় ৫৫০ বছর আগে প্রাচীন লাভার প্রবাহ থেকে এটি তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের ঢেউ ও ক্ষয়প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক নরম পাথর ক্ষয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে শক্ত পাথরের অংশটি খিলানের মতো আকৃতি ধারণ করে। ভূতত্ত্বের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে differential erosion বলা হয়। 

‘হোলে’ নামটি হাওয়াইয়ের একটি স্থানীয় উদ্ভিদের নাম থেকে এসেছে। খিলানটি শত শত বছর ধরে সমুদ্রের ঢেউ, ঝড় ও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল।

প্রাকৃতিক এই স্থাপনাটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা নতুন ছিল না। ২০১৮ সালে কিলাউয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও পরবর্তী ভূমিকম্পে আশপাশের পাহাড়ি উপকূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পাথরের গায়ে নতুন ফাটল ও অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে ২০২০ সালে পুরোনো পর্যবেক্ষণ এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দর্শনার্থীদের জন্য পরে আরও নিরাপদ দূরত্বে নতুন ভিউয়িং পয়েন্ট তৈরি করা হয়। 

২০২০ সালেই একটি শক্তিশালী ঝড়ের বড় ঢেউ খিলানটির নিচের অংশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভেঙে দেয়। এরপর ২০২১ সালে পার্ক কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছিল, হোলে সি আর্চের স্থায়িত্ব সীমিত এবং কোনো এক সময় এটি সমুদ্রে ধসে পড়বে। 

খিলানটি চলে গেলেও ওই উপকূলকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। সমুদ্রের দিকে খাড়া নেমে যাওয়া পাহাড়ি প্রান্তে নতুন করে ফাটল বা ধস দেখা দিতে পারে। তাই দর্শনার্থীদের বন্ধ এলাকা ও বিপজ্জনক ক্লিফের কিনারা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস।

৫৫০ বছরের পুরোনো এই প্রাকৃতিক বিস্ময়ের পতনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যারা অতীতে হোলে সি আর্চ দেখেছেন, তারা পুরোনো ছবি ও স্মৃতি শেয়ার করছেন। 

ChannelNRB Footer