News Ticker
221.png

রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি আবিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৯

শেয়ার

শেয়ার

রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি আবিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার (১৫ হাজার ৭৫০ ফুট) উচ্চতায় টিকটিকির নতুন একটি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চরম ঠান্ডা ও প্রতিকূল পরিবেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র এই সরীসৃপটির শরীরের বাহারি রং ও বিশেষ নকশা গবেষকদের নজর কেড়েছে। নতুন প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Liolaemus archipensis’। 

পেরুর সান মার্কোস বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম শনিবার (৩ অক্টোবর) নতুন প্রজাতিটির আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশ করে। দক্ষিণ পেরুর আরেকিপা অঞ্চলের উঁচু আন্দীয় মালভূমি বা ‘পুনা’ এলাকায় প্রজাতিটির সন্ধান পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আবিষ্কৃত টিকটিকিটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৬ থেকে ৮ সেন্টিমিটার। ছোট আকৃতির হলেও এর শরীরের রং ও নকশায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য। বিশেষ করে পুরুষ ও স্ত্রী সদস্যের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 

স্ত্রী টিকটিকির পিঠে রয়েছে বর্গাকার আকৃতির দাগ। অন্যদিকে পুরুষের পিঠে দেখা যায় তির্যক দাগ ও সাদা আঁশ। গবেষকদের ধারণা, পাথুরে পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে শরীরের এই নকশা মিশে যেতে সাহায্য করে। ফলে শিকারিদের নজর এড়াতে এটি তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

নতুন প্রজাতিটির খাদ্যাভ্যাসও বেশ বৈচিত্র্যময়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি ছোট উদ্ভিদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রাণী খায়। খাদ্যতালিকায় রয়েছে মাকড়সা, গুবরে পোকা, বিভিন্ন ছোট পোকামাকড় এবং পোকার লার্ভা। 

অর্থাৎ উদ্ভিদ ও ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী—দুই ধরনের খাবারই গ্রহণ করে এই প্রজাতি। এত উচ্চতায় এমন বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস বিজ্ঞানীদের কাছে প্রজাতিটির অভিযোজন ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রজাতিটির সন্ধান মিলেছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৮০০ মিটারের বেশি উচ্চতায়। আন্দিজের এই অঞ্চল অত্যন্ত ঠান্ডা, শুষ্ক ও পাথুরে। এমন প্রতিকূল পরিবেশে একটি ক্ষুদ্র সরীসৃপের টিকে থাকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

গবেষকদের মতে, শরীরের রং ও নকশা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এগুলো প্রজাতিটির পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। পাথুরে ভূমির সঙ্গে শরীরের রং ও দাগের মিল তাদের আড়ালে থাকতে সহায়তা করতে পারে।

গবেষণার প্রধান জীববিজ্ঞানী লিং হুয়ামানি-ভালদেররামার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় নতুন প্রজাতিটির বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়। গবেষক জানিয়েছেন, এই নতুন প্রজাতির বর্ণনা পেরুর জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। 

গবেষকদের হিসাবে, পেরুতে বর্তমানে ২৯৬ প্রজাতির টিকটিকি নথিভুক্ত হয়েছে। নতুন ‘Liolaemus archipensis’ আবিষ্কারের ফলে দেশটির সরীসৃপ বৈচিত্র্যের তালিকায় আরও একটি প্রজাতি যুক্ত হলো।

নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Diversity-তে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রত্যন্ত ও দুর্গম আন্দীয় অঞ্চলে এখনো অনেক জীবপ্রজাতি রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান সীমিত। ফলে এ ধরনের আবিষ্কার শুধু নতুন একটি প্রাণীর সন্ধান নয়, বরং পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্র ও এর জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করে। 

ChannelNRB Footer