News Ticker
221.png

রিয়াদে আরামকো তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫২

শেয়ার

শেয়ার

রিয়াদে আরামকো তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার (৩ অক্টোবর) হামলার দাবি করার পর রোববারও হুতিদের পক্ষ থেকে রিয়াদ ও রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের খুরাইস এলাকায় আরামকোর স্থাপনায় হামলার কথা বলা হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকো এখনো হামলার দাবির আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করেনি। 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রিয়াদের দক্ষিণে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছ থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি দেখা গেছে। তবে আগুনটি হামলার কারণে হয়েছে কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে লক্ষ্যবস্তুতে আগুন ধরে যায়। তাদের দাবি, সৌদি আরবের ইয়েমেনে চালানো সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। 

রোববার দেওয়া আরেক বিবৃতিতে হুতিরা জানায়, তারা রিয়াদের পাশাপাশি রাজধানীর পূর্বে অবস্থিত খুরাইস এলাকায় আরামকোর স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। হুতি সামরিক মুখপাত্রের দাবি, দুটি পৃথক সামরিক অভিযানে এসব স্থাপনায় ‘সুনির্দিষ্টভাবে’ আঘাত করা হয়েছে এবং আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। 

খুরাইস সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদন এলাকা। সেখানে আরামকোর বড় তেল স্থাপনা রয়েছে এবং রিয়াদ থেকে এলাকাটি প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

হুতিদের দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে কাজ করা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, হুতিরা তাদের ক্ষয়ক্ষতি ও ইয়েমেনে চলমান লড়াই নিয়ে জনমত থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আরামকোর স্থাপনায় হামলার কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। আরামকোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়। 

হুতিদের এই দাবি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লড়াই চলছে। সৌদি সমর্থিত বাহিনী হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে, আর হুতিরাও পাল্টা সৌদি ভূখণ্ড ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে।

হুতি মুখপাত্রের দাবি, গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য এলাকায় সৌদি হামলার জবাব হিসেবেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে এসব দাবির সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক দেশ সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার যেকোনো দাবি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আক্রান্ত হলে সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে এবারের ঘটনায় আরামকোর উৎপাদন বা তেল সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ ও আরামকোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। 

ইয়েমেনের চলমান সংঘাত নতুন করে সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাতের পর্যায়ে পৌঁছানোয় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এই অঞ্চল বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। 

ChannelNRB Footer