ইরানের রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তৈরি বিশাল সব বিলবোর্ড ও দেয়ালচিত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এসব প্রচারণায় কখনো ট্রাম্পকে মুখ বন্ধ অবস্থায়, কখনো জাদুকরের বাক্সে আটকে থাকা অবস্থায় এবং কখনো পানির নিচে ডুবে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ছবিগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধকালীন প্রচারণার অংশ।
তেহরানের বিখ্যাত ভালিয়াসর স্কয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। একটি বিশাল চিত্রে ট্রাম্পের ঠোঁট সেলাই করা এবং মুখকে হরমুজ প্রণালির পানিপথ দিয়ে আটকে দেওয়ার মতো দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এর সঙ্গে এমন একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে, যার অর্থ দাঁড়ায়—পরিস্থিতি চরম সীমায় পৌঁছেছে।
তেহরানের আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি জাদুকরের বাক্সের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। তাঁর হাতে কোকাকোলা ও হ্যামবার্গার রয়েছে। পোস্টারে এমন একটি ব্যঙ্গাত্মক বার্তা ব্যবহার করা হয়েছে, যার ভাবার্থ—চোখের পলকেই সব শেষ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নকশাটি তুরস্কে জুলাই মাসের একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তৈরি করা হয়েছে। আবার অন্য একটি পোস্টারে ট্রাম্পকে পানির নিচে ডুবে থাকা অবস্থায় ডলারের নোট আঁকড়ে থাকতে দেখা যায়। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘বড় বিজয়’-এর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের এসব বিলবোর্ড শুধু ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন পোস্টারে ইরানি সেনাদের শক্তি প্রদর্শন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামকে পরাজিত করার দাবি এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে।
একটি বিশাল পোস্টারে একজন ইরানি সেনাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আরেকটি চিত্রে উত্তাল সমুদ্রে ইরানি যোদ্ধার বিপরীতে আগুনে জ্বলতে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দেখানো হয়েছে।
এভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি জনসম্মুখের প্রচারণাকেও ইরান তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিলবোর্ড সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি এবং বড় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়।
এসব পোস্টার তৈরির সঙ্গে যুক্ত Khaneh-ye Tarrahan বা ‘Designers’ House’-এর ব্যবস্থাপক মোস্তফা কাফায়ি জানান, কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটলে তাদের দল দ্রুত নতুন নকশা তৈরিতে কাজ শুরু করে। একটি পোস্টার তৈরিতে কয়েকজন ডিজাইনার একসঙ্গে কাজ করেন এবং বর্তমান প্রযুক্তির পাশাপাশি এআইভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়।
কাফায়ির ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে এত বেশি পোস্টারে দেখানোর অন্যতম কারণ হলো তাঁর নিজের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমকেন্দ্রিক উপস্থিতি। ইরানি ডিজাইনারদের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের জবাব তারা প্রচারণার মাধ্যমেও দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় ধরনের হামলা চালালে আরও শক্তিশালী পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। একই সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টাও চলছে।
ফলে তেহরানের দেয়াল ও বিলবোর্ডগুলো এখন শুধু শিল্প বা প্রচারণার জায়গা নয়; এগুলো ইরানের যুদ্ধকালীন রাজনৈতিক বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রচারণারও দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:







