পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন হাজারো সমর্থক। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে শুরু হয়েছে পিটিআইয়ের বহুল আলোচিত লং মার্চ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাক্কি মারওয়াত এলাকা থেকে যাত্রা শুরুর সময় হাজারো মানুষ মিছিলে অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল পিটিআইয়ের লাল-সবুজ পতাকা। একটি ট্রাকের গায়ে ইমরান খানের বড় ছবি এবং ‘ইমরান খানকে মুক্তি দাও’ লেখা ব্যানারও দেখা গেছে।
পিটিআই নেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে চলা এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ইসলামাবাদে পৌঁছে ইমরান খানের মুক্তির দাবি জোরালো করা। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি নিজেও এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুরের নেতৃত্বেও ডেরা ইসমাইল খান থেকে আরেকটি বহর ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
লং মার্চ ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তার চিকিৎসার সুযোগসহ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য থেকে যায়। পাশাপাশি সরকার পিটিআইকে ৪ অক্টোবরের কর্মসূচি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিল।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পিটিআই তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলের নেতারা বলছেন, ইমরান খানের মুক্তি ছাড়াও তাঁর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর এবং পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।
লং মার্চকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে কনটেইনার বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রাজধানীর স্বাভাবিক যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে কর্তৃপক্ষ রাজধানী ঘিরে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়। পিটিআইয়ের আগের বিক্ষোভে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় এবারও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ইমরান খান ও তাঁর দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
এদিকে ইমরানের সমর্থকদের দাবি, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় রাখতেই একের পর এক মামলা ও কারাবন্দিত্বের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।
লং মার্চ ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে প্রস্তুতি নিয়েছে, আর পিটিআই নেতারা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, কতসংখ্যক মানুষ শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। এ মুহূর্তে মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে, আর পিটিআই নেতারা আরও বড় জনসমাগমের প্রত্যাশা করছেন।
আরও পড়ুন:







