News Ticker
221.png

রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারে তরুণীর মৃত্যু, কোয়ারেন্টিনে শত শত মানুষ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৮

শেয়ার

শেয়ার

রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারে তরুণীর মৃত্যু, কোয়ারেন্টিনে শত শত মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ওই কর্মী গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২ অক্টোবর শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং একাধিক হাসপাতালে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনো তাঁর মৃত্যুর কারণ প্লেগ বলে নিশ্চিত করেনি। দেশটির স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজর জানিয়েছে, ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়া’তে। পরীক্ষায় তাঁর পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জীবাণুর উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি। 

তরুণীর মৃত্যুর পর রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে, গবেষণাগারে প্লেগের জীবাণু নিয়ে কাজ করার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল এবং তিনি সেখান থেকেই সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।

কিছু প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয় যে, গবেষণাগারে প্লেগের জীবাণু বহনকারী একটি টেস্টটিউব ভেঙে যাওয়ার পর তিনি আক্রান্ত হন। তবে রসপোট্রেবনাদজর জানিয়েছে, গবেষণাগারে রোগজীবাণু নিয়ে কোনো দুর্ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এসব দাবি এখনো নিশ্চিত নয় এবং সরকারি তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও এ ঘটনায় গুজব বা অনুমানের পরিবর্তে সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তরুণীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ জনকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

যে হাসপাতালে ওই তরুণীর চিকিৎসা চলেছিল, সেখানে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটিতে নতুন রোগী ভর্তি ও ছাড়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং কিছু নিয়মিত পরীক্ষাগার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, শনাক্ত সব সংস্পর্শের ব্যক্তিকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে নতুন অসুস্থতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 

ঘটনার পর ইরকুতস্ক অঞ্চলের আরও কয়েকটি হাসপাতালে সতর্কতামূলক বিধিনিষেধ আরোপের খবর পাওয়া গেছে। কিছু হাসপাতালে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া শেলেখভের একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় কর্মীদের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি মূলত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

রাশিয়ার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আনা পোপোভাও পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ইরকুতস্কে গেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। 

প্লেগ রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো Yersinia pestis। সাইবেরিয়ার কিছু এলাকায় বন্য ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা পোকামাকড়ের মধ্যে এই জীবাণু প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান। তবে রাশিয়ায় মানুষের মধ্যে প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিরল।প্লেগের একটি গুরুতর ধরন হলো নিউমোনিক প্লেগ। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং চিকিৎসা না হলে দ্রুত প্রাণঘাতী হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এটি অন্য মানুষের মধ্যেও ছড়াতে পারে। তবে দ্রুত শনাক্ত করে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে প্লেগ চিকিৎসাযোগ্য।

তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়লেও রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরকুতস্ক অঞ্চলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রসপোট্রেবনাদজরের পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ওই তরুণীর পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো রোগজীবাণু পাওয়া যায়নি। তাঁর সংস্পর্শে আসা কয়েকজনের পরীক্ষায় সাধারণ সর্দি-জ্বরের ভাইরাস ও কোভিড-১৯ শনাক্ত হলেও অন্যদের পরীক্ষায় সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

ChannelNRB Footer