News Ticker
221.png

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স : ১৮ দিনে গ্রেপ্তার ৫ হাজার, পুড়েছে ২৪টি স্কুল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫১

আপডেট: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০৫

শেয়ার

শেয়ার

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স : ১৮ দিনে গ্রেপ্তার ৫ হাজার, পুড়েছে ২৪টি স্কুল
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাব্যবস্থা ও স্কুলের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার (৫ অক্টোবর) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সের ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এসব স্কুলে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। 

ফরাসি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, দীর্ঘ সময়ের ক্লাস এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামো তাদের পড়াশোনায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে। গরমের সময় অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাব নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। 

আন্দোলনের সূচনা হয় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উপকণ্ঠে। এরপর ধীরে ধীরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে বিক্ষোভের মাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং বেশ কিছু এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। 

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বড় অংশই কিশোর-কিশোরী। বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, পাথর বা অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের। 

তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ফরাসি শাখা পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে অথবা ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া ৭৮ জন শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মী আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বিক্ষোভের সময় স্কুলের প্রবেশপথ, বাসস্টপ ও অন্যান্য স্থাপনায় ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনার স্তূপ ও অন্যান্য বস্তুতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিছু এলাকায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার নতুন করে বড় ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে সোমবার থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্যারিস অঞ্চলেই শতাধিক স্কুল বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু স্কুলে দীর্ঘদিনের শিক্ষক শূন্যপদ পূরণ এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে স্কুল অবকাঠামো নিয়ে বৈঠকের কথাও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষা খাতের সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ফ্রান্সের রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করেছে। সরকার একদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির কিছু বিষয় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে সহিংসতা ও ভাঙচুরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ফরাসি সরকারের অভিযোগ, আন্দোলনের কিছু অংশে উগ্র রাজনৈতিক কর্মীরা ঢুকে পরিস্থিতিকে সহিংস করে তুলেছে। তবে বামপন্থী দল, শিক্ষক সংগঠন ও অভিভাবকদের কয়েকটি সংগঠন পুলিশের ভূমিকা ও সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছে।

ChannelNRB Footer