মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে টানা দুই দিনের বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩ জন। স্থানীয় আরাকান আর্মি (এএ) এবং পন্নাগুন যুব সংগঠনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার বিকেলে রাখাইনের পন্নাগুন (Ponnagyun) টাউনশিপে বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে চালানো ওই হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন বলে এএ ও পন্নাগুন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
এর পরদিন সোমবার সকালে একই টাউনশিপের আরেকটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে ফের বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এতে আরও ২ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। ফলে দুই দিনের দুই হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত আটজনে।
পন্নাগুন যুব সংগঠনের মুখপাত্র কিয়াও উইন তুন জানিয়েছেন, হামলার শিকার দুটি শিবিরের বাসিন্দারাই বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের কারণে তারা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে এসব শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
তবে হামলার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে দেশটির সরকার দাবি করেছে, সামরিক বাহিনী বেসামরিক হতাহত এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে। রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার এসব বিবরণ তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
নতুন হামলার মাত্র এক সপ্তাহ আগে রাখাইনের কিয়াউকতাও এলাকায় সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। হামলাটি একটি বাজারসংলগ্ন এলাকায় হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। ওই ঘটনার পর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ওই হামলার পর বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। রাখাইনে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ ও সাধারণ বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে রাখাইন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। আরাকান আর্মি রাজ্যের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে সামরিক বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাতের মধ্যে বিমান হামলা, স্থল লড়াই ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রয়টার্সের হিসাবে, দেশটিতে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:







