News Ticker
221.png

যুদ্ধের অষ্টম মাসে পদত্যাগ করলেন ইরানের তেলমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০৮

শেয়ার

শেয়ার

যুদ্ধের অষ্টম মাসে পদত্যাগ করলেন ইরানের তেলমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অষ্টম মাসে ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন। রোববার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (NIOC) প্রধান নির্বাহী হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবায়ি জানিয়েছেন, পাকনেজাদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি কিছু সময় আগেই সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা জানিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর অনুরোধ গ্রহণ করেন।

মোহসেন পাকনেজাদ ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ইরানের তেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংঘাতের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনও ব্যাহত হয়েছে।

ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তেল। কিন্তু যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক আয় ব্যাপক চাপে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের সমুদ্রে আর কোনো তেল চালান অবশিষ্ট নেই এবং চলতি সপ্তাহে দেশটির তেল আয় শূন্যে নেমে আসতে পারে। তবে এটি মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য; ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ দাবির সঙ্গে ভিন্ন কোনো অবস্থান থাকলে তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। 

পাকনেজাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন হামিদ বোভার্দ। তিনি ২০২৪ সাল থেকে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ন্যাশনাল ইরানিয়ান সাউথ অয়েল কোম্পানি এবং ইরানিয়ান অফশোর অয়েল কোম্পানিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

তেল মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের মধ্যে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি অব্যাহত রাখা, বৈদেশিক আয় ধরে রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখা।

ইরানের তেলমন্ত্রী পরিবর্তনের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশটির অর্থনীতি যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে। তেল রপ্তানি কমে যাওয়া, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতার দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

ChannelNRB Footer