ইরানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ ঘটনায় আরও শতাধিক বিক্ষোভকারী মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ইরানে জানুয়ারি মাসের বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তারা হলেন আলিরেজা সেপাহি ও আলিরেজা রাইসি। দেশটির বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজানের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসফাহানে বিক্ষোভ চলাকালে চার পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সেপাহি ও রাইসির বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে সদস্যপদ, অস্ত্র ব্যবহার করে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি, ‘পৃথিবীতে দুর্নীতি’ এবং সহিংসতায় উসকানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়। তাদের মৃত্যুদণ্ড সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখার পর সোমবার সকালে তা কার্যকর করা হয়।
ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর। দেশটির মুদ্রার মূল্যপতন ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়।
বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে। তবে নিহত ও আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এবং অধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
Iran Human Rights-এর ৫ অক্টোবরের হিসাবে, ১৯ মার্চ থেকে জানুয়ারি বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪ জন বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, একই সময়ে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ইরানে মোট অন্তত ৬০৪টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার তথ্য তারা নথিভুক্ত করেছে।
অন্যদিকে Center for Human Rights in Iran-এর বরাত দিয়ে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি বিক্ষোভে আটক অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী মৃত্যুদণ্ডের মুখে রয়েছেন।
সোমবার ইসফাহানের কেন্দ্রীয় কারাগারে আলিরেজা সেপাহি ও আলিরেজা রাইসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। Iran Human Rights-এর তথ্য অনুযায়ী, তাদের মামলায় যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন এবং নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই মামলায় গত ১৯ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত মোট সাতজন বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগের বিপরীতে দাবি করছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা গুরুতর অপরাধ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যায় ভূমিকার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট আরও বহু বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন:







