ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সংঘাত এবং সৌদি আরবে একের পর এক হামলার প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স-এর জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সৌদি রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েন করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুথিরা। একই সময়ে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সক্রিয় করা হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানিয়েছেন, দেশগুলোর ওপর হামলার জবাব দিতে জোটের সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তিন দেশই সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক গত ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটির মূল নীতি হলো—তিন দেশের কোনো একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর এবারই প্রথম এর সামরিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
৫ অক্টোবরের জরুরি বৈঠকে জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা দ্রুত সৌদি আরবে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ মুহূর্তে পাকিস্তান ও তুরস্ক কতজন সেনা পাঠাবে, কোন কোন সামরিক ইউনিট যাবে বা মোতায়েনের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী—তা প্রকাশ করা হয়নি।
যৌথ বিবৃতিতে শুধু ‘সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা’ দ্রুত সৌদি আরবে মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় আইন ও অনুমোদিত ব্যবস্থার অধীনে সম্পন্ন হবে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়ে পাকিস্তান ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ গত সপ্তাহে বলেছিলেন, নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে রক্ষায় পাকিস্তানের হাতে থাকা সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকবে। তবে তিনি তখন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলায় পাকিস্তানি বাহিনী সরাসরি কোনো বিমান হামলায় অংশ নিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি।
এবার মক্কা জোটের জরুরি বৈঠকের পর যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সেই অবস্থানকে আরও আনুষ্ঠানিক রূপ দিল।
তুরস্কও সৌদি আরবের নিরাপত্তায় সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে তুরস্কের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদিতে সামরিক মোতায়েনের সিদ্ধান্তের সময়ই ইয়েমেনে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে বড় অভিযান শুরু করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বাহিনী লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা (Mocha) পুনর্দখলের দাবি করেছে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ওই অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে।
অন্যদিকে হুথিরা সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাবিঘ এলাকার একটি আরামকো স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
তিন দেশের যৌথ বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টারও তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের শহর, বেসামরিক স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর চলমান হামলার নিন্দা করা হয়।
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তিন দেশ ঐক্যবদ্ধ।
আরও পড়ুন:







