News Ticker
221.png

কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলায় তুর্কি শস্যবাহী জাহাজ ডুবি, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৪

শেয়ার

শেয়ার

কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলায় তুর্কি শস্যবাহী জাহাজ ডুবি, নিহত ২
ছবি: সংগৃহীত

কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলার পর তুরস্কের মালিকানাধীন একটি শস্যবাহী কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এ ঘটনায় জাহাজটির দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। আরও ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রোমানিয়ার উপকূলের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম ‘রোয়াদ মাম্মাদভ’ (Royad Mammadov)। জাহাজটি ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দর থেকে ভুট্টা বা শস্য নিয়ে ইতালির রাভেন্নার দিকে যাচ্ছিল। জাহাজটি তুরস্কের মালিকানাধীন হলেও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকায় চলাচল করছিল।

রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে জাহাজটিতে গুরুতর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়। জাহাজটি রোমানিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ)-এর মধ্যে, স্ফান্তুল ঘেওর্গে এলাকার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

জাহাজটিতে আগুন লাগার পর সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডুবে যায়। রোমানিয়ার উদ্ধারকারী সংস্থা, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এতে ১১ জন ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং অন্তত একজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ পরে নিশ্চিত করে, দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়ার দুটি ড্রোন বেসামরিক জাহাজটিতে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ঘটনাটিকে বেসামরিক নৌযানের ওপর ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি নিরপেক্ষ জলসীমায় চলাচল করছিল এবং ইউক্রেন থেকে ভুট্টা নিয়ে ইতালির উদ্দেশে যাচ্ছিল। তিনি জানান, জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিক ছিলেন।

তবে রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ হামলার উৎস বা আগুন লাগার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও জেলেনস্কির অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বর্তমানে ইউক্রেনের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করাই নিরাপদ। 

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটির ১৩ সদস্যের ক্রুতে ভারতীয় ও আজারবাইজানি নাগরিক ছিলেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজটিতে থাকা তিন ভারতীয় নাগরিকই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতদের একজন ছিলেন জাহাজটির ক্যাপ্টেন। পরে রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ মোট দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। 

‘রোয়াদ মাম্মাদভ’ ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। জাহাজটির গন্তব্য ছিল ইতালির রাভেন্না। এতে ইউক্রেনীয় শস্য বা ভুট্টা পরিবহন করা হচ্ছিল। 

ইজমাইল ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোর একটি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কৃষ্ণসাগর ও দানিউব অঞ্চলের বন্দরগুলো ইউক্রেনীয় খাদ্যশস্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠেছে।

ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলা বা হামলার আশঙ্কা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ও কৃষ্ণসাগরের নৌ-বাণিজ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর ইতোমধ্যেই উচ্চঝুঁকির নৌপথে পরিণত হয়েছে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সমুদ্র মাইনের ঝুঁকির মধ্যেও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইউক্রেনীয় বন্দর থেকে শস্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করছে।

নতুন এই ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ জাহাজটি রোমানিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। রোমানিয়া ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। 

ChannelNRB Footer