News Ticker
221.png

ফ্রান্সে ১ হাজার ৮০০ স্কুল অবরুদ্ধ, আরও তীব্র হচ্ছে ছাত্র আন্দোলন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৩

শেয়ার

শেয়ার

ফ্রান্সে ১ হাজার ৮০০ স্কুল অবরুদ্ধ, আরও তীব্র হচ্ছে ছাত্র আন্দোলন
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, শিক্ষক সংকট ও স্কুলের অবকাঠামোগত দুরবস্থার প্রতিবাদে চলমান ছাত্র আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশজুড়ে শত শত স্কুলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। শিক্ষার্থীদের ইউনিয়নের দাবি, প্রায় ১ হাজার ৮০০টি উচ্চবিদ্যালয় অবরুদ্ধ বা বন্ধ রয়েছে। তবে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, একই দিনে ৮৯১টি প্রতিষ্ঠানে ক্লাস আংশিক বা পুরোপুরি স্থগিত ছিল। 

ছাত্রদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ, লিল, স্ট্রাসবুর্গ, তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও মিছিল হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত প্যারিসের বাইরে বিভিন্ন শহরের সমাবেশে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষ অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত ও জরাজীর্ণ। কোথাও শিক্ষক সংকট রয়েছে, আবার অনুপস্থিত শিক্ষকদের জায়গায় নিয়মিত বিকল্প শিক্ষকও পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলে অবস্থান, পর্যাপ্ত বিরতির অভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া Parcoursup নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে আরও অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষক সংকটের দ্রুত সমাধান, স্কুল ভবনের সংস্কার এবং শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য কমানোর দাবি জানাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। 

মঙ্গলবারের কর্মসূচিকে আন্দোলনের তৃতীয় বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও রাস্তায় নামেন। সরকারি হিসাবে দুপুর পর্যন্ত প্রদেশগুলোতে প্রায় ৮৬ হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেশে অংশ নেন। রাজধানী প্যারিসে আরও বড় সমাবেশের প্রস্তুতি ছিল।

ফ্রান্সের উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন জানিয়েছে, দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ স্কুল অবরুদ্ধ করা হয়েছে বা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৯১টিতে মঙ্গলবার ক্লাস পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল।

আন্দোলনের কয়েকটি কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। কিছু শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। 

ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। একই সময়ে ৭০০-এর বেশি পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলেও সরকারি হিসাবে জানানো হয়েছে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশ পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, কিছু বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। 

সোমবার উত্তর ফ্রান্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয় এবং তার একটি হাত হারানোর ঘটনা আন্দোলনের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের ধরন এবং বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর কৌশল নিয়ে তদন্ত ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি, দীর্ঘ স্কুল সময়সূচি পর্যালোচনা এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করার কথা জানিয়েছে। মন্ত্রীদের অক্টোবরের শেষ নাগাদ প্রাথমিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। 

সেপ্টেম্বরে প্যারিসের উপকণ্ঠের কয়েকটি স্কুলে শুরু হওয়া আন্দোলন মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেছে।

ফ্রান্সে আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে থাকায় এই আন্দোলন রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে শিক্ষার্থীরা মূলত শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, শিক্ষক সংকট, স্কুলের পরিবেশ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য কমানোর দাবিকেই সামনে রাখছে।

ChannelNRB Footer