ট্রেনের চালকের কেবিনে ছারপোকা (bedbug) শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে southeastern-এর একাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন চালক আক্রান্ত ট্রেনে উঠতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সের হেস্টিংসের কাছে West Marina traincare depot-কে কেন্দ্র করে ছারপোকার উপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসে। প্রথম অভিযোগ বা শনাক্তকরণের ঘটনা ২২ সেপ্টেম্বরের দিকে বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ট্রেনে ছারপোকার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং কিছু ট্রেন সাময়িকভাবে পরিষেবা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে ওঠে একটি ট্রেন, যেটিকে রেলকর্মীদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘Bedbug Express’ নামে ডাকা হচ্ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ওই ট্রেনটি লন্ডন ও কেন্টের মধ্যে কয়েকটি যাত্রা সম্পন্ন করে। তবে ছারপোকা শনাক্ত হওয়ার পর ট্রেনটির দুটি বগি বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, অন্তত তিনটি ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয় বলে দ্য টেলিগ্রাফের বরাত দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এর আগেও ছারপোকার অভিযোগের কারণে আরও কিছু পরিষেবা বাতিল হয়েছিল।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, কয়েকজন ট্রেন চালক তাঁদের কেবিনে ছারপোকা দেখতে পান এবং কারও কারও ব্যাগেও পোকা পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এক চালক নিরাপত্তামূলক পোশাক ছাড়া ট্রেনে উঠতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় দুটি ট্রেনের পরিষেবা বাতিল হওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
রেলকর্মীদের উদ্বেগের মধ্যে বিষয়টি কীভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। ছারপোকার উপস্থিতি নিয়ে খবর ছড়িয়ে পড়লেও Southeastern বলেছে, যাত্রীদের বসার এলাকায় ছারপোকা শনাক্ত হয়নি।
কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, চারটি ট্রেনে ছারপোকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ট্রেনে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় এবং সেগুলো পরিষ্কার ও পরীক্ষা করার পর আবার পরিষেবায় ফেরানো হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, নিশ্চিত হওয়া ঘটনাগুলো চালকদের কেবিনেই সীমাবদ্ধ ছিল।
Southeastern আরও জানিয়েছে, দুটি ট্রেনের চালকের কেবিনে ছারপোকা পাওয়া গেলেও যাত্রীদের এলাকায় কোনো ছারপোকা শনাক্ত হয়নি। আরও দুটি ট্রেন পরীক্ষা করার জন্য সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল; সেগুলোতে ছারপোকা পাওয়া যায়নি এবং পরে পরিষেবায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
Southeastern-এর High Speed 1 (HS1) পরিষেবাতেও ছারপোকা দেখা গেছে—এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ তৈরি করে। তবে কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত ট্রেনগুলো HS1-এর লন্ডনমুখী বা লন্ডন থেকে চলাচলকারী পরিষেবায় ব্যবহৃত হচ্ছিল না।
কোম্পানিটি বলেছে, তাদের নেটওয়ার্কে প্রতিদিন প্রায় ১,৮০০টি পরিষেবা এবং ৭০০টি চালকের কেবিন রয়েছে; আক্রান্ত ঘটনা ছিল এর তুলনায় খুবই সীমিত।
Southeastern-এর Head of Drivers Oly Turner বলেন, চালকরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। কোনো ট্রেনে ছারপোকার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয় এবং পরিষ্কার ও পরিদর্শনের পর নিরাপদ হিসেবে নিশ্চিত হলেই পুনরায় পরিষেবায় ফেরানো হয়।
ছারপোকা খুব ছোট পোকা, যা কাপড়, ব্যাগ, আসবাব ও বিভিন্ন সরু ফাঁকে লুকিয়ে থাকতে পারে। একবার কোনো যানবাহন বা স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়লে এগুলো শনাক্ত ও নির্মূল করা কঠিন হতে পারে। এ কারণেই ট্রেনের মতো গণপরিবহনে এমন অভিযোগ দেখা দিলে আক্রান্ত কোচ বা ট্রেন পরীক্ষা করে পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বর্তমান ঘটনায় Southeastern-এর দাবি অনুযায়ী যাত্রীদের বসার জায়গায় ছারপোকা পাওয়া যায়নি—ফলে সংবাদে উঠে আসা কর্মীদের কেবিনে শনাক্তকরণ এবং যাত্রীদের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
Southeastern-এর পক্ষ থেকে পরবর্তীতে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত ট্রেনগুলো পরীক্ষা ও পরিষ্কার করার পর পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানি জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন:







