গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রায় তিন বছরে ২৬৩ সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। সংস্থাটির পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এসব সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আরও অনেকে আহত, বাস্তুচ্যুত ও আটক হয়েছেন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী ৫০ সাংবাদিককে আটক করেছে, যাদের মধ্যে ২৩ জন এখনো কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া আরও তিন সাংবাদিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর স্থানীয় সাংবাদিকরাই মূলত সেখানকার পরিস্থিতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরছেন। বোমা হামলা, বাস্তুচ্যুতি, যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয় এবং নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যেও সাংবাদিকরা হাসপাতাল, ধ্বংসস্তূপ ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশের ওপর ইসরাইলের বিধিনিষেধ থাকায় স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা ও হত্যার অভিযোগ করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, সাংবাদিকরা গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরার কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
সাংবাদিক হত্যার অভিযোগ নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বরাবরই বলে আসছে, গাজায় নিহত কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ের পাশাপাশি হামাস বা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নিহত কয়েকজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের কথিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রকাশ করেছে।
তবে সাংবাদিক হত্যার সংখ্যা নির্ধারণে CPJ জানিয়েছে, তারা যাদের সাংবাদিক বা মিডিয়া কর্মী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রমাণ থাকলে সেই ব্যক্তিকে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে না। ২০২৬ সালে CPJ তাদের আগের তালিকাও পর্যালোচনা করে কিছু নাম বাদ, পুনরায় অন্তর্ভুক্ত ও পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলবিরোধী হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরুর তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় সহিংসতা ও প্রাণহানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই দীর্ঘ সংঘাতে সাংবাদিকদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিকভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো নিহতদের মৃত্যুর স্বাধীন তদন্ত এবং সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন:







