গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও সহিংসতায় গত তিন বছরে ২০ হাজার ৭৪৮ জন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মীও নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত গাজা ও পশ্চিম তীরে শিক্ষা খাতে সংঘটিত প্রাণহানি, আহত, আটক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গাজা উপত্যকায় নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ হাজার ১৮৯ জন স্কুলশিক্ষার্থী এবং ১ হাজার ৩৮৬ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া গাজায় ২৮ হাজার ৫৮৬ স্কুলশিক্ষার্থী এবং ৩ হাজার ৮২ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শিক্ষা খাতের কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। গাজায় ৮০৫ জন স্কুলশিক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মী এবং ২৪৬ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মী।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত তিন বছরে ১৩৪ জন স্কুলশিক্ষার্থী এবং ৩৯ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় পশ্চিম তীরে ৮৭১ জন স্কুলশিক্ষার্থী ও ২৮৩ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ৪১৬ জন স্কুলশিক্ষার্থী ও ৪৮১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পশ্চিম তীরে শিক্ষা খাতের কর্মীদের ওপরও হামলা ও আটকের ঘটনা ঘটেছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সাতজন স্কুলশিক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মী নিহত এবং আরও ২৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৭৬-এর বেশি শিক্ষক ও স্কুলকর্মী এবং ২১ জন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী আটক হয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ১৭৯টির বেশি সরকারি স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা—ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত ১০৫টির বেশি স্কুলে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের হিসাবে, গাজায় ৬৩টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে গাজায় ৭০০টি শিক্ষা ও শেখার কেন্দ্র এবং ১২টি ভার্চুয়াল স্কুল চালু করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি, নিরাপত্তাহীনতা এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনি শিশুদের শিক্ষাজীবন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই পশ্চিম তীরে শিক্ষা-সম্পর্কিত ২২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০ হাজার ৪৫০ শিক্ষার্থী এবং ৮৫৯ জন শিক্ষা কর্মীকে প্রভাবিত করেছে।
ইউনিসেফ বলেছে, পশ্চিম তীরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে নিরাপত্তা, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও চলাচলে বিধিনিষেধ শিশুদের শিক্ষার সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করছে। সংস্থাটি শিশুদের নিরাপদে শিক্ষায় অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরে শুধু শিক্ষার্থীদের প্রাণহানিই নয়, শিক্ষা অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, নিহত ২০ হাজার ৭৪৮ শিক্ষার্থী এবং ১ হাজার ৫৮ শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মীর সংখ্যা মিলিয়ে শিক্ষা খাতে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৮০৬ জনে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে শিক্ষা খাত ও শিক্ষার অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে ইসরাইল তার সামরিক অভিযানকে নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।
সারকথা: ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, গাজা ও পশ্চিম তীরে তিন বছরে ২০ হাজার ৭৪৮ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ১ হাজার ৫৮ শিক্ষক ও শিক্ষা খাতের কর্মী নিহত এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষাকর্মী আহত বা আটক হয়েছেন।
আরও পড়ুন:







