News Ticker
221.png

ইউক্রেনে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭

শেয়ার

শেয়ার

ইউক্রেনে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাবে, হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, শিল্প স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতভর চালানো এই হামলায় রাশিয়া ১৩০টি ড্রোন ও ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী। এর পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়। ইউক্রেনের দাবি, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ১৬১টি আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করেছে।

রুশ হামলার লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ, পোলতাভা, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও খারকিভসহ ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চল। কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভবন ও অবকাঠামোতে আগুন এবং ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। 

উত্তরাঞ্চলের প্রিলুকি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে কয়েকজন নিহত ও আহত হন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন। 

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, হামলায় ১৩০টি ড্রোন এবং ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬১টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে।

হামলার সময় কিয়েভের বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে অবস্থান নেন। রাজধানীতে রাতভর একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে। 

রুশ হামলায় আবাসিক ভবন ছাড়াও শিল্প ও পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দনিপ্রো শহরে একটি শিল্প স্থাপনা এবং জাপোরিঝঝিয়ায় পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবনেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। 

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, রুশ হামলার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প স্থাপনা। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ও সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে বলে মস্কো জানিয়েছে। কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চল ছাড়াও চেরনিহিভ, কিরোভোহরাদ, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করার কথা জানিয়েছে রাশিয়া। 

রাশিয়ার এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বেসামরিক ও আবাসিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

হামলার একদিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরও প্রতিরক্ষা সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

রুশ হামলার ধারাবাহিকতায় ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ChannelNRB Footer