News Ticker
221.png

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৬

শেয়ার

শেয়ার

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
ছবি: সংগৃহীত

রসায়নে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি বি. কাগান (Henri B. Kagan) এবং জাপানের কেনসো সোই (Kensō Soai)। অসাম্যপূর্ণ জৈব সংশ্লেষণে (asymmetric organic synthesis) নন-লিনিয়ার ইফেক্ট ও অটোক্যাটালাইসিসের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তাদের এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (৭ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

কাগান ও সোইয়ের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মলিকিউলার কাইরালিটি বা অণুর ‘আয়না-প্রতিচ্ছবি’ বৈশিষ্ট্য। অনেক অণু দেখতে একই রকম হলেও তাদের দুটি রূপ একে অপরের আয়না-প্রতিচ্ছবি—অনেকটা মানুষের ডান ও বাম হাতের মতো। এ ধরনের দুটি রূপকে একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি মেলানো যায় না।

জীবজগতে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবন্ত প্রাণীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ অণু সাধারণত এই দুই সম্ভাব্য রূপের মধ্যে মাত্র একটি রূপে পাওয়া যায়। কেন প্রকৃতি একটি নির্দিষ্ট ‘হাতের’ অণুকে বেছে নেয়—রসায়নবিদদের কাছে এটি দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্য ছিল। 

কাগান ও সোইয়ের গবেষণা দেখিয়েছে, কীভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়াকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় যাতে অণুর একটি নির্দিষ্ট আয়না-প্রতিচ্ছবি অন্যটির তুলনায় বেশি পরিমাণে তৈরি হয়। তাদের কাজ এ ক্ষেত্রে অটোক্যাটালাইসিস ও নন-লিনিয়ার প্রভাবের ভূমিকা বোঝার নতুন পথ তৈরি করেছে।

এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু মৌলিক রসায়নে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক ওষুধ তৈরিতেও অণুর কোন ‘হাতের’ রূপ তৈরি হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই রাসায়নিক উপাদানের দুটি আয়না-প্রতিচ্ছবি শরীরে সম্পূর্ণ ভিন্ন আচরণ করতে পারে। একটি রূপ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাগত প্রভাব দিতে পারে, অন্যটি তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর বা ক্ষতিকর প্রভাবও সৃষ্টি করতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট কাঠামোর অণু তৈরি করতে পারা ওষুধ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি বি. কাগান অসাম্যপূর্ণ জৈব সংশ্লেষণ ও অসমমিত ক্যাটালাইসিসের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। তার গবেষণা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অণুর নির্দিষ্ট রূপ তৈরির পদ্ধতি উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে, জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোই অটোক্যাটালাইসিসের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ আবিষ্কার করেন, যেখানে একটি নির্দিষ্ট কাইরাল অণুর উপস্থিতি একই ধরনের অণু তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। তার এই কাজ অণুর ‘হাতের’ বৈশিষ্ট্য কীভাবে তৈরি ও বৃদ্ধি পেতে পারে, তা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার। কাগান ও সোই এই অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। পুরস্কারের সঙ্গে তারা পাবেন নোবেল পদক ও সনদ।

আগামী ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে নোবেল পদক তুলে দেওয়া হবে। 

নোবেল কমিটির মতে, কাগান ও সোইয়ের গবেষণা মৌলিক রসায়নের একটি দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করেছে—প্রকৃতি কীভাবে অণুর দুটি সম্ভাব্য আয়না-প্রতিচ্ছবির মধ্যে একটিকে প্রাধান্য দেয়। একই সঙ্গে তাদের গবেষণা আধুনিক ক্যাটালাইসিস, জৈব সংশ্লেষণ এবং ওষুধ তৈরির বিজ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তাদের আবিষ্কার তাই একদিকে যেমন রসায়নের মৌলিক জ্ঞানকে এগিয়ে নিয়েছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে আরও নির্ভুলভাবে প্রয়োজনীয় অণু তৈরির পথও সুগম করেছে।

ChannelNRB Footer