ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় দেশটির ১১১টি পেট্রোকেমিক্যাল ও ওষুধ উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, ৪৪টি ওষুধ কারখানা এবং আরও সাতটি ফার্মাসিউটিক্যাল স্থাপনা রয়েছে।
মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল ওয়েপনস (OPCW)-এর নির্বাহী পরিষদের ১১৩তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এ তথ্য জানান ইরানের প্রতিনিধি হাদি ফারাজভান্দ। ইরানের স্থায়ী মিশন ওই বক্তব্যের অংশবিশেষ প্রকাশ করেছে।
ফারাজভান্দের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের রাসায়নিক ও ওষুধ শিল্পের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ক্ষয়ক্ষতি রাসায়নিক শিল্পে শান্তিপূর্ণ কার্যক্রম এবং রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনের আওতায় ইরানের কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নেও প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইরানের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৬০টি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স রয়েছে। এসব স্থাপনা জ্বালানি, শিল্প-রাসায়নিক ও বিভিন্ন উৎপাদন উপকরণের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ইরানের মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কয়েকটি স্থাপনায় হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। শিল্প-খাতের সংবাদমাধ্যম ICIS জানিয়েছিল, ওই সময় ফাজর পেট্রোকেমিক্যালের কয়েকটি ইউটিলিটি স্থাপনা এবং রেজাল ও আমির কাবির পেট্রোকেমিক্যালের কিছু স্থাপনা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ইরানের প্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় ৪৪টি ওষুধ কারখানা এবং সাতটি ফার্মাসিউটিক্যাল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল, রাসায়নিক উপাদান এবং পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে বলে ইরান দাবি করছে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণেও ইরান যুদ্ধের কারণে ফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহ ব্যবস্থায় পেট্রোকেমিক্যাল ও পরিবহন-নির্ভরতার বিষয়টি উঠে এসেছে। Think Global Health-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রোপিলিন, বেঞ্জিন ও অ্যামোনিয়ার মতো পেট্রোকেমিক্যাল উপাদানের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় ওষুধের সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।
হাদি ফারাজভান্দ বলেন, রাসায়নিক ও ফার্মাসিউটিক্যাল স্থাপনায় হামলার কারণে রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের (CWC) কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কনভেনশনের ১, ৬ ও ১১ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র সংঘাত থেকে রাসায়নিক স্থাপনা সুরক্ষিত রাখা জরুরি। এতে কনভেনশনের কার্যকারিতা, রাসায়নিক বিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন:







