News Ticker
221.png

থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৫

শেয়ার

শেয়ার

থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০
ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চলমান ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (৭ অক্টোবর) জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্যায় দেশের ৫১টি প্রদেশ আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে ২৮টি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা পানিতে প্লাবিত রয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী ব্যাংককও রয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের প্রাচিনবুরি প্রদেশে পরিস্থিতি বিশেষভাবে সংকটপূর্ণ। সেখানে বন্যায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রদেশটির সাতটি জেলার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং ১ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরকারি হিসাবে, বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের ৭৭টি প্রদেশের মধ্যে ২৭ থেকে ২৮টি প্রদেশে এখনও বন্যার প্রভাব রয়েছে—সরকারি বিভিন্ন আপডেটে সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। 

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। রাজধানীতে বন্যায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে। 

ব্যাংককের অনেক এলাকায় পানি কমে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নিচু এলাকাগুলোতে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। শহরের খালগুলো থেকে অতিরিক্ত পানি সরিয়ে নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদার করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

বন্যার পানি পুরোপুরি না কমতেই নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ। ১০ থেকে ১২ অক্টোবর ব্যাংকক ও আশপাশের এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নিচু ও বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বন্যার কারণে থাইল্যান্ডের শিল্পখাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির ফেডারেশন অব থাই ইন্ডাস্ট্রিজের হিসাবে, শিল্পখাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন বাথ (প্রায় ১৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এর আগে ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন বাথ। 

বিশেষ করে গাড়ি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। তবে ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাড়ি কারখানাগুলোতে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার মতো যন্ত্রাংশের মজুত রয়েছে।

রাজধানী ব্যাংককসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বন্যার পানি সরানো, সড়ক পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। একই সময়ে আগামী সপ্তাহে ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বন্যার কারণে যাতে যোগাযোগ ও নগর ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

থাইল্যান্ডে সেপ্টেম্বর সাধারণত বর্ষাকালের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ সময়। তবে চলতি বছরের অতিবৃষ্টিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার ব্যাপকতা বেড়েছে। নদ-নদীর পানি এখনও কয়েকটি এলাকায় বাড়তে থাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ChannelNRB Footer