স্থানীয় এক নারীকে হত্যার অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তারের পর জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর এক মাসের কারফিউ জারি করেছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার জন্য মদ্যপান নিষিদ্ধ এবং সামরিক কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন তৃতীয় মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসনের নির্দেশনায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ৭ অক্টোবর দুপুর থেকে ৯ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত সেনাসদস্যদের জন্য ‘অপারেশনাল পজ’ কার্যকর থাকবে। এ সময়ে তাদের ঘাঁটির বাইরে যাওয়ার অনুমতি থাকবে না এবং মদ্যপান করা যাবে না।
এরপর ৩০ দিনের ‘পিরিয়ড অব রিফ্লেকশন’ কার্যকর হবে। এ সময় প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ থাকবে। সেনাসদস্যদের নির্ধারিত সামরিক আবাসন অথবা ঘাঁটির বাইরে অনুমোদিত নিজ বাসস্থানে অবস্থান করতে হবে। কারফিউ চলাকালে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার প্রবেশপথে নজরদারিও বাড়ানো হবে।
গত শনিবার ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী স্থানীয় নারী আনা ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগ ওঠে ২০ বছর বয়সী মার্কিন মেরিন ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পাশাপাশি তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্যালার্ড অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে ওই নারী ও এক ব্যক্তিকে একসঙ্গে হোটেলে ঢুকতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে একা বের হতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ওকিনাওয়ার একটি এলাকায় ব্যালার্ডকে আটক করা হয়।
ঘটনাটি ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে মার্কিন সরকারের কাছে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ওকিনাওয়ার গভর্নর জেন্তা কোজাও মার্কিন সেনাদের শৃঙ্খলা ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্বীপটিতে মার্কিন ঘাঁটি, সামরিক কর্মকাণ্ড, শব্দদূষণ এবং সেনাসদস্যদের সঙ্গে জড়িত অপরাধ নিয়ে বহু বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ রয়েছে।
৪৮ ঘণ্টার বিরতির সময়ে মার্কিন সেনাদের শৃঙ্খলা, আচরণবিধি, মদ্যপান-সংক্রান্ত নীতি, ওকিনাওয়ার সংস্কৃতি এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, স্থানীয় জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা জাপান-মার্কিন জোটের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে কারফিউ ও সাময়িক বিধিনিষেধ মূলত সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সামরিক সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। মার্কিন সরকারের বেসামরিক কর্মী, ঠিকাদার, জাপানি কর্মী এবং সেনাদের পরিবারের সদস্যরা এসব বিধিনিষেধের আওতায় নেই বলে মার্কিন মেরিন কর্পস জানিয়েছে।
জাপানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর বড় একটি অংশ ওকিনাওয়ায় মোতায়েন রয়েছে। তাই অঞ্চলটি জাপান-মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতেও ওকিনাওয়ার বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
আরও পড়ুন:







