News Ticker
221.png

যুক্তরাজ্যে সমকামী সাজিয়ে বাংলাদেশিদের ভুয়া আশ্রয় আবেদন, গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫৬

আপডেট: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:০৮

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাজ্যে সমকামী সাজিয়ে বাংলাদেশিদের ভুয়া আশ্রয় আবেদন, গ্রেপ্তার ৩
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার কৌশল হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সমকামী পরিচয়ে সাজিয়ে ভুয়া আবেদন তৈরির অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট। অভিযানে প্রতারণা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে দুইজন এবং অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সন্দেহে আরও একজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে চক্রটির বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, গহনা ও কয়েক হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি মূলত বাংলাদেশি পুরুষদের যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য সমকামী পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া আবেদন তৈরিতে সহায়তা করত। বাংলাদেশে ফিরে গেলে জীবননাশের ঝুঁকি রয়েছে—এমন দাবি তুলে আশ্রয়ের আবেদন প্রস্তুত করা হতো। এজন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হতো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

চক্রটির বিরুদ্ধে ভুয়া চিঠি, নথি, সাজানো ছবি এবং সম্পর্কের প্রমাণ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। আশ্রয়প্রার্থীদের সমকামী পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন ছবি, সমকামী ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কিংবা যৌন সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে সাজানো নথি ও অন্যান্য উপকরণ তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, তদন্তকারীরা এ ধরনের ভুয়া আশ্রয় আবেদনের সঙ্গে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে অবস্থিত ‘আপনজন’ নামের একটি বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনার সময় সন্দেহজনক আবেদনগুলোর মধ্যে একই ধরনের কিছু প্যাটার্ন শনাক্ত হওয়ার পর সংগঠনটিকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে বিষয়টি তদন্ত করেন।

ক্রিস ফস্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে সংশ্লিষ্টরা ভুয়া চিঠি ও নথি সরবরাহ করত। এসব নথিতে আবেদনকারীদের সমকামী পরিচয় সমর্থনের জন্য ‘আপনজন’ থেকে চিঠি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ১০০টিরও বেশি আশ্রয় আবেদন বর্তমানে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এসব ভুয়া আবেদনের কিছু কোনো ধরনের সন্দেহ ছাড়াই অনুমোদিত হয়ে থাকতে পারে।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিচারকেরা এর আগেও ‘আপনজন’ থেকে দেওয়া কিছু তথ্য-প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সংগঠনটির সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার দাবি করা এক আবেদনকারীর একটি ছবিকেও একজন বিচারক সাজানো বলে মনে করেছিলেন।

চলতি বছরের শুরুতে বিবিসির একটি অনুসন্ধানেও যুক্তরাজ্যে ভুয়া সমকামী পরিচয় ব্যবহার করে আশ্রয় আবেদন তৈরির অভিযোগ সামনে আসে। ওই অনুসন্ধানে কিছু আইনজীবী ও পরামর্শদাতার বিরুদ্ধে অভিবাসীদের সমকামী হিসেবে উপস্থাপন করে আশ্রয়ের আবেদন তৈরিতে সহায়তার অভিযোগ করা হয়েছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও সংগঠন ভুয়া আবেদন বা জাল প্রমাণ তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যের প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী, আশ্রয় আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ChannelNRB Footer