ভারতের রাজধানী দিল্লির সীমাপুরি এলাকায় একটি বহুতল ভবন ধসে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দুই শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ভবনটি ধসে পড়ার পর রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়।দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমাপুরি এলাকার ইদগাহ মাছলি মান্ডির কাছে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ পাশের দুই থেকে তিনটি স্থাপনাতেও পড়ে। খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দিল্লি পুলিশ, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF), দিল্লি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব দিল্লি (MCD) ও DUSIB-এর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
প্রাথমিকভাবে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২১ বছর বয়সী গোলাফসা, যিনি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অন্য দুজনের মধ্যে একজন প্রায় ১২ বছর বয়সী কিশোরী এবং অপরজন প্রায় দেড় বছর বয়সী শিশু। পরে বৃহস্পতিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়ায়।
নিহত গোলাফসা ভবন ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি পরিবারের এক সদস্যকে ফোন করে নিজের অবস্থান জানান। পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে তার অবস্থান শনাক্ত করেন।
কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলাফসা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি বাথরুমে ছিলেন যখন ভবনটি ধসে পড়ে।
ভবন ধসের ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে তাহিরপুরের রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিন বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি হাতে হাতেও ইট ও কংক্রিটের টুকরো সরিয়ে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
ভবন ধসের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরাখণ্ডে ভূমিকম্পের কম্পনের পর ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। MCD-ও জানিয়েছে, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তারা এমন তথ্য পেয়েছে এবং ভবনের মালিক সেটি খালি করার প্রক্রিয়ায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে কর্তৃপক্ষ এখনো ভূমিকম্পের কম্পনই ভবন ধসের সরাসরি কারণ—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটি প্রায় ২২৫ বর্গফুটের একটি জায়গায় নির্মিত হয়েছিল। MCD এটিকে DUSIB এলাকার একটি তিনতলা কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেছে, যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভবনটিকে চার বা পাঁচতলা বলা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে কয়েক দফায় অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হয়েছিল।
ভবনটির বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছর বলে জানিয়েছে MCD। দুর্ঘটনার সময় ভবনটি বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা পাঁচে দাঁড়িয়েছে। আটজন আহতকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, NDRF, DDMA ও MCD-এর দল উদ্ধার ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:







