ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতভর চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচ শিশু রয়েছে। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে। সেখানে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।
ইউক্রেনের জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থা জানিয়েছে, প্রিলুকির আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫৪ জন, যাদের মধ্যে সাতজন শিশু।
হামলায় ভবনটির কয়েকটি অংশ সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালান উদ্ধারকর্মীরা। এ সময় অন্তত ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিহত শিশুদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল মাত্র এক বছর। তিনি প্রিলুকির হামলাকে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন।
শুধু প্রিলুকি নয়, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, ক্রেমেনচুক ও ওলেক্সান্দ্রিয়া শহরেও হামলা চালানো হয়। কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এবং ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন নিহত হন। ক্রেমেনচুকে দুইজন এবং ওলেক্সান্দ্রিয়ায়ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
কিয়েভের কয়েকটি আবাসিক এলাকাতেও ড্রোন আঘাত হানে। এতে ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
রুশ হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শীত মৌসুম সামনে রেখে রাশিয়া দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক ও শিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথ থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় আবাসিক ভবনসহ বেসামরিক স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণহানি ঘটেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ৪৬টি জেটচালিত ড্রোনও ব্যবহার করেছে।
ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোনের ৮০ শতাংশের কিছু বেশি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা ইউক্রেনের জন্য তুলনামূলকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
প্রিলুকির ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধান করছেন।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজে পুলিশ ও জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। প্রিলুকিতেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাব থেকে মৃতের সংখ্যা কয়েক দফায় বেড়েছে। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা ২৮ জন।
আরও পড়ুন:







