News Ticker
221.png

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৯

শেয়ার

শেয়ার

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
ছবি: সংগৃহীত

সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও ধ্রুপদি সাহিত্যের গবেষক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ একাডেমি তাঁর নাম ঘোষণা করে।

সুইডিশ একাডেমির ভাষ্য অনুযায়ী, “ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য” কারসনকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী অ্যান কারসন কানাডার টরন্টোতে ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাহিত্যকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও নাট্যধর্মী লেখার সীমানা ভেঙে নতুন ধরনের সাহিত্যিক কাঠামো তৈরি করা। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণ তাঁর লেখায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

কারসন মূলত ক্লাসিক্যাল সাহিত্য ও প্রাচীন গ্রিক ভাষার একজন বিশেষজ্ঞ। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্য, দর্শন এবং আধুনিক জীবনের অভিজ্ঞতা পাশাপাশি উপস্থিত থাকে।

সুইডিশ একাডেমি বলেছে, তাঁর প্রায় পুরো সাহিত্যকর্মেই ভাষাবিদের শব্দের প্রতি গভীর মনোযোগ এবং কবির নতুন অর্থ আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষার মিলন ঘটেছে। শব্দের ব্যুৎপত্তি ও অর্থের পরিবর্তন তাঁর সৃষ্টিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। 

কারসনের উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘Eros the Bittersweet’, ‘Autobiography of Red’, ‘Men in the Off Hours’, ‘The Beauty of the Husband’, ‘Nox’, ‘The Albertine Workout’, ‘Float’ এবং ‘Norma Jeane Baker of Troy’।

বিশেষ করে Autobiography of Red গ্রন্থে তিনি প্রাচীন গ্রিক কবিতার একটি পৌরাণিক চরিত্রকে কেন্দ্র করে আধুনিক সময়ের একটি ব্যতিক্রমী কাহিনি নির্মাণ করেন। তাঁর Norma Jeane Baker of Troy গ্রন্থে গ্রিক পুরাণের হেলেন অব ট্রয় ও হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর চরিত্রকে একটি অভিনব সাহিত্যিক কাঠামোয় পাশাপাশি আনা হয়েছে।

কারসনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য হলো প্রচলিত ‘কবিতা’ বা ‘গদ্য’—কোনো একটি ঘরানায় নিজেকে সীমাবদ্ধ না রাখা। তাঁর লেখায় কবিতা, গবেষণা, ব্যক্তিগত স্মৃতি, অনুবাদ, নাটক ও চিত্রকলার উপাদান একসঙ্গে কাজ করে।

২০১৬ সালের Float বইটিতে ২২টি আলাদা চ্যাপবুক রয়েছে, যেগুলো পাঠক ইচ্ছেমতো বিভিন্ন ক্রমে পড়তে পারেন। এই ধরনের কাঠামোগত পরীক্ষা তাঁর সাহিত্যকে প্রচলিত বইয়ের ধারণা থেকেও আলাদা করেছে। 

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য অনুবাদের ক্ষেত্রেও কারসনের কাজ বিশেষভাবে আলোচিত। ইউরিপিদিস ও সোফোক্লিসের মতো প্রাচীন গ্রিক নাট্যকারদের রচনা তিনি আধুনিক ইংরেজি ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর অনুবাদ অনেক ক্ষেত্রেই শুধু ভাষান্তর নয়, স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে এবার ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা অর্থমূল্য রয়েছে, যা প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।

অ্যান কারসন এ পুরস্কারের খবর পাওয়ার সময় আইসল্যান্ডে ছিলেন। সুইডিশ একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোনে পুরস্কারের খবর দেওয়ার সময় তিনি আইসল্যান্ডে বাতাসের শব্দ শুনছিলেন। পুরস্কার পাওয়ার খবরটি তাঁকে বিস্মিত করেছে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

নোবেল পাওয়ার আগে অ্যান কারসন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে গ্রিফিন পোয়েট্রি প্রাইজ, টি. এস. এলিয়ট প্রাইজ, প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড এবং পেন/নাবোকভ অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মান। ২০০৫ সালে তাঁকে কানাডার Order of Canada-এর সদস্য করা হয়। 

তিনি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসিক্যাল সাহিত্য পড়িয়েছেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কারসন ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসিকস বিভাগেও অধ্যাপনা করেছেন এবং পরে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। 

অ্যান কারসনের আগে কানাডার সাহিত্যিক হিসেবে নোবেল পেয়েছিলেন লেখক অ্যালিস মুনরো। কারসনের পুরস্কার কানাডার সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ChannelNRB Footer