ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের কামাতোরস্ক শহরে যাত্রীবাহী বাসে রাশিয়ার বোমা হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে চালানো এই হামলায় আরও ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
তবে নিহত ৩৩ জনের সবাই বাসে ছিলেন না। ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিসের হিসাবে, কামাতোরস্কে দুইটি যাত্রীবাহী বাসকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ৩০ জন নিহত হন। একই অঞ্চলের বিলেঙ্কে এলাকায় গোলাবর্ষণে আরও তিনজন নিহত হওয়ায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৩৩-এ পৌঁছায়।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে কামাতোরস্কের একটি সড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছিল। ওই সময় সেখানে রুশ বাহিনীর একটি গাইডেড বোমা আঘাত হানে।
হামলার পর দুটি বাসেই আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলের ছবিতে একটি বাসের পুড়ে যাওয়া কাঠামো এবং সড়কে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আহতদের উদ্ধারে জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
প্রাথমিকভাবে হামলায় ১২ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে উদ্ধারকাজ ও হতাহতদের হিসাব হালনাগাদ করার পর বাস হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩০ এবং আহতের সংখ্যা ১৮ বলে জানায় ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা হামলাটিকে বেসামরিক মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দোনেৎস্ক অঞ্চলের গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন অভিযোগ করেন, যাত্রীবাহী বাসে হামলা চালানো হয়েছে এমন জায়গায় যেখানে একসঙ্গে অনেক মানুষকে হতাহত করা সম্ভব।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ঘটনাস্থলটিকে বাসস্টপ হিসেবে উল্লেখ করে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে হামলার বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়া এর আগে ইউক্রেনে হামলার ক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
হামলার পর কামাতোরস্ক ও পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর স্লোভিয়ানস্কে জননিরাপত্তার স্বার্থে গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান হামলার পরিস্থিতিতে বাস চলাচলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যাবে না।
কামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক দোনেৎস্ক অঞ্চলের ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে এসব এলাকায় রুশ ড্রোন ও গাইডেড বোমা হামলা বেড়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কামাতোরস্কে এই প্রাণঘাতী হামলার মাত্র একদিন আগে ইউক্রেনজুড়ে বড় ধরনের রুশ বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হন।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকোর তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় তিনজন নিহত ও ১৪ জন আহত হন।
আরও পড়ুন:







