News Ticker
221.png

আফগানিস্তানে পোশাকের কারণে গ্রেপ্তার হচ্ছেন নারীরা: জাতিসংঘের রিপোর্ট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩১

শেয়ার

শেয়ার

আফগানিস্তানে পোশাকের কারণে গ্রেপ্তার হচ্ছেন নারীরা: জাতিসংঘের রিপোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে তালেবান কর্তৃপক্ষের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নারী ও কিশোরীদের গ্রেপ্তার, আটক এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির রাজধানী কাবুল ও পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে অন্তত ৫২ নারী ও এক কিশোরীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়ার ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জড়িত। চাদর না পরা, চুল দৃশ্যমান থাকা, রঙিন ওড়না বা মেকআপ ব্যবহার এবং পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই জনসমক্ষে বের হওয়ার অভিযোগে নারীদের আটক করা হয়েছে।

ইউএনএএমএ জানিয়েছে, আটক নারীদের কয়েক ঘণ্টা হেফাজতে রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে প্রকৃত আটকের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। ভয়, সামাজিক কলঙ্ক এবং নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে না।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে নারীদের পোশাক ও চলাফেরার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের নামে তাঁদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পোশাকের ধরন, চুল দৃশ্যমান থাকা কিংবা প্রসাধনী ব্যবহারের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নারীদের আটক করার ঘটনা উদ্বেগজনক।

ইউএনএএমএ আরও জানিয়েছে, নারী দোকানদারসহ বিভিন্ন শ্রেণির নারীর বিরুদ্ধে মৌখিক দুর্ব্যবহার, মারধর এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ নারীদের চলাফেরার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে। পাশাপাশি আটক ও সামাজিক কলঙ্কের কারণে তাঁদের আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা পুনর্দখলের পর থেকে তালেবান কর্তৃপক্ষ নারী ও কিশোরীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় নারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজের সুযোগ সংকুচিত করা এবং জনসমক্ষে চলাফেরা ও পোশাকের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক আটকের ঘটনাগুলো এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নারীদের ওপর চাপ ও বৈষম্যের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নারীদের আটকের প্রতিবাদে ২০২৬ সালের জুনে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভ দমনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

সাম্প্রতিক আটকের ঘটনাগুলো দেশটিতে নারীদের অধিকার ও পোশাকবিধি নিয়ে চলমান সংকটকে আবারও সামনে এনেছে।

ইউএনএএমএ আফগানিস্তানের কার্যত কর্তৃপক্ষের প্রতি নারীদের লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলকভাবে পোশাকবিধি প্রয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সব আফগান নাগরিকের মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে দেশটির বাধ্যবাধকতা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

তালেবান কর্তৃপক্ষ এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, পোশাকের মতো ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ শুধু নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেই সীমিত করে না; বরং তাঁদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগকেও আরও সংকুচিত করে।

ChannelNRB Footer