মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের একটি কারাগারে বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। নিহতদের মধ্যে নয়জন কারাবন্দি এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে মাজাতলান শহরের এল কাস্তিয়ো কারাগারে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের জননিরাপত্তা সচিবালয় জানিয়েছে, কারাগারে স্বজনদের সঙ্গে বন্দিদের সাক্ষাতের সময় সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বন্দি আহত হন। আহত ১৬ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থী নিহত হন। তিনি কারাগারে একজন বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। বাকি নিহতরা কারাবন্দি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় বন্দিদের কেউ কেউ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারেন। তবে কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং ঠিক কী কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, নৌবাহিনী ও অঙ্গরাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কারাগারে প্রবেশ করেন।
মেক্সিকোর ফেডারেল নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কারাগারে স্বজনদের সাক্ষাৎ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মীরা। একই সঙ্গে কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এল কাস্তিয়ো কারাগারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ বন্দি রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মেক্সিকোর সিনালোয়া অঙ্গরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে শক্তিশালী সিনালোয়া কার্টেলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ অঞ্চলে সহিংসতা বেড়েছে।
কার্টেলটির প্রয়াত নেতা হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানের ছেলেদের অনুসারী গোষ্ঠী এবং ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ সাম্বাদার অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
তবে এল কাস্তিয়ো কারাগারের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সঙ্গে মাদক চক্রের বিরোধের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
মেক্সিকোর বিভিন্ন কারাগারে অতিরিক্ত বন্দি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীর অভাব এবং দুর্নীতির কারণে সহিংসতার ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। বিশ্লেষকদের মতে, বিচার শেষ হওয়ার আগেই দীর্ঘ সময় কারাগারে আটক থাকার প্রবণতাও দেশটির কারাগারগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সিনালোয়ার রাজধানী কুলিয়াকানের একটি কারাগারে সংঘর্ষে সাত বন্দি নিহত হয়েছিলেন। নতুন এই প্রাণহানির ঘটনা দেশটির কারাগারগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।
আরও পড়ুন:







