News Ticker
221.png

দিল্লির যন্তরমন্তরের আশপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫১

শেয়ার

শেয়ার

দিল্লির যন্তরমন্তরের আশপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির যন্তরমন্তর এলাকার আশপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গণপরিবহন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগামী শনিবার (১০ অক্টোবর) এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। 

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের নির্দেশে জনপথ–কর্তব্য পথ সংযোগস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

মোবাইল ইন্টারনেটের সব ধরনের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ নির্দেশ কার্যকর করার জন্য টেলিকম অপারেটরদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের অনুমোদনের পর এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তের ফলে ওই এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যাতায়াতকারীদের দৈনন্দিন যোগাযোগে অসুবিধা তৈরি হতে পারে।

ককরোচ জনতা পার্টি ১০ অক্টোবর যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছে।

দেশটির ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে এই আন্দোলন জোরালো হয়েছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে বিরোধী দল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধন প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ও প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

দিল্লি পুলিশ প্রস্তাবিত কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ ডিপকে।

তিনি বলেছেন, অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা কর্মসূচি থেকে সরে আসবেন না। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আটক ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কা এবং চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

দলটির দাবি, বিক্ষোভের আগে তাদের বহু সদস্য ও সমর্থককে আটক করা হয়েছে। তবে আটকের বিষয়ে দলটির উত্থাপিত সব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীগামী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও প্রশ্ন তুলেছে। আদালত গণপরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভের দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যন্তরমন্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

পুলিশের পরিকল্পনায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সম্ভাব্য আটক ব্যক্তিদের পরিবহন এবং বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিস্থিতি যাতে সংঘাতের দিকে না যায়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্ক এখন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করেছে। আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটারদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অন্যদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থানও এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।

শনিবারের বিক্ষোভে কতসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বিক্ষোভ ঘিরে ইন্টারনেট বন্ধ, গণপরিবহনে বিধিনিষেধ এবং ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে রাজধানীর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ChannelNRB Footer