News Ticker
221.png

ইরানে তিন দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০২

শেয়ার

শেয়ার

ইরানে তিন দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে তিন দিনব্যাপী ব্যাপক সামরিক হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, জ্বালানি স্থাপনা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এ পরিকল্পনার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে হামলা চালানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নির্দেশে পেন্টাগন নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করেছে। পরিকল্পনায় অল্প সময়ের মধ্যে, প্রায় তিন দিন ধরে নিবিড় বিমান হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া দেশটির জ্বালানি স্থাপনা, আইআরজিসির কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক সদর দপ্তরও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটন মনে করছে। নতুন পরিকল্পনায় এই সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে পরিকল্পনায় কোন স্থাপনায় কখন হামলা চালানো হবে, সম্ভাব্য অভিযানে ঠিক কতটি বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে কিংবা কতটা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা গত ২ অক্টোবর মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সম্ভাবনা এবং সে ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা আলোচনার বিষয় ছিল।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) সম্ভাব্য অভিযান শুরুর জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। তবে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশের অর্থ এই নয় যে হামলার নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়ে গেছে।

সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সদস্য মোতায়েনের বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।

এসব প্রস্তুতির উদ্দেশ্য হলো, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ এলে দ্রুত সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলার সম্ভাবনা মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী সরঞ্জামের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

তবে সামরিক প্রস্তুতি চললেও নতুন অভিযান বাস্তবে শুরু হবে কি না, তা নির্ভর করছে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

পরিকল্পনা নিয়ে খবর প্রকাশের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না তাঁর প্রশাসন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কার্যকর আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে একদিকে সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের চেষ্টাও চলছে।

এই দুই অবস্থানের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে পার্থক্য থাকলেও সামরিক পরিকল্পনা তৈরি রাখা এবং তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়। ফলে তিন দিনের হামলার পরিকল্পনা তৈরি হওয়ার খবর থেকে তাৎক্ষণিক হামলা আসন্ন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত তেল ও জ্বালানির উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়।

রয়টার্সের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর ঘোষণা এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ দেখা গেছে।

তবে সামরিক সংঘাত আবার শুরু হলে তেল পরিবহন, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং জ্বালানির সরবরাহে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও বিভিন্ন দেশের জ্বালানি ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের হাতে সম্ভাব্য একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর কথা বলা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।

এ অবস্থায় সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক আলোচনা এবং দুই দেশের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে সংঘাত কোন দিকে এগোবে। আপাতত তিন দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা তৈরির খবর পাওয়া গেলেও অভিযান শুরুর কোনো নিশ্চিত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

ChannelNRB Footer