ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগে আটক হয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর-৫৬ এলাকায় নিজের বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর-৫৬ এলাকায় ধ্রুব রাঠির বাসায় পুলিশ পৌঁছায়। পরে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দিল্লিতে নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আন্দোলন আয়োজকদের দাবি, ধ্রুব রাঠিসহ বিভিন্ন প্রতিবাদী ব্যক্তি ও কর্মীকে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পুলিশ আটক অভিযান চালিয়েছে। তাঁদের মুক্তির দাবিও জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে আটক করা হয়।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’। নামটি মূলত ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ। বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে তুলনা করার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনটির অন্যতম পরিচিত মুখ অভিজিৎ দীপকে। বেকারত্ব, তরুণদের ভবিষ্যৎ, সরকারি ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির মতো বিষয়কে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্যোগটি পরে রাজপথের কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
আন্দোলনকারীরা নিজেদের বক্তব্য ও দাবির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং গণতান্ত্রিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছেন।
আন্দোলনকারীদের এবারের কর্মসূচির অন্যতম প্রধান দাবি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং যাঁদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান অনুযায়ী, ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া বা যাচাইয়ের জন্য চিহ্নিত নামগুলোর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করার সুযোগ রয়েছে।
প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসানো এবং বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, এভাবে আটক করার মাধ্যমে তাঁদের প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সীমিত করা হচ্ছে।
এদিকে, ধ্রুব রাঠির আটকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে কি না এবং তাঁকে কখন মুক্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ধ্রুব রাঠির আটকের ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিবাদের অধিকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন:







