News Ticker
221.png

দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৯

শেয়ার

শেয়ার

দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নিজের বাসার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার সময় তাঁকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তৃণমূল কংগ্রেসের আরও পাঁচ নেতা ও সংসদ সদস্যকেও আটক করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে এ ঘটনা ঘটে। আটকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে তিনি ‘দেশ বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান’ বার্তা দেন।

দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁকে বাসা থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

এরপর শনিবার সকালে নিজের বাসার সামনেই প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন তিনি। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’। কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা দলের নেতাদের আটক করে।

আটক তৃণমূল নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন, লোকসভার সংসদ সদস্য প্রতিমা মণ্ডল এবং দলের নেতা শামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে। তাঁদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অনিশ্চয়তা ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের দাবি, প্রকৃত ভোটারদের নাম যেন কোনোভাবেই অন্যায়ভাবে বাদ না পড়ে এবং ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকে।

এই ইস্যুতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।

তবে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে-বিপক্ষে উত্থাপিত দাবিগুলো যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক হওয়ার পর প্রিজন ভ্যানে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গান গেয়েছেন এবং গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, মমতাকে বাসা থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

দলের পক্ষ থেকে এই পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

শনিবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাজারো পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত এবং বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনটির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও দিল্লিতে আটক করা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিরোধীদের একাংশ এ ঘটনাকে প্রতিবাদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও অনুমতিসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

ChannelNRB Footer