News Ticker
221.png

৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪১

শেয়ার

শেয়ার

৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি ভবন ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর একাধিক পরাঘাত অনুভূত হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন ভবন থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি; তবে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)–এর তথ্য অনুযায়ী, পানামার দক্ষিণাঞ্চলে পিতালোজা আরিবা এলাকার কাছাকাছি ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ দশমিক ৬ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্র ছিল। উৎপত্তিস্থল পানামা সিটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে।

ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা পরবর্তী বিশ্লেষণে সংশোধন করে ৭.৭ নির্ধারণ করা হয়। অগভীর গভীরতায় সংঘটিত হওয়ায় কম্পনটি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের সময় রাজধানী পানামা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা বাড়িঘর, অফিস ও উঁচু ভবন থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। কয়েকটি এলাকায় ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির মধ্যাঞ্চলের পেনোনোমে শহরে কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঐতিহাসিক সান হুয়ান বাউতিস্তা গির্জারও ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিছু স্থাপনার অংশ ধসে পড়া এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

প্রধান ভূমিকম্পের পর একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়। এতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়।

ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি উপকূলের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। ফলে উপকূলীয় এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ভূমিকম্পের পর রাজধানীর টোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিদর্শন শেষে বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবার চালু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পানামা খালের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

পানামা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত। এই বিস্তৃত অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক গতিবিধির কারণে নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম দেখা যায়।

তবে ৭.৭ মাত্রার মতো শক্তিশালী ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিরল। এ ধরনের ভূমিকম্পে ভবন, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রধান কম্পনের পরও পরাঘাত হতে পারে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করা এবং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।

ChannelNRB Footer