ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে নির্মাণাধীন মসজিদের কাজ শেষ করেই দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এ জন্য ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থী এবং ছেলে গোলাম নবী আজাদের পরাজয়ের পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর এই ঘোষণা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) হুমায়ুন কবীর জানান, মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ না করে তিনি দেশ ছাড়বেন না। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে দুবাইয়ে চলে যাবেন তিনি। তবে এটি তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনা; বাস্তবে কবে তিনি দেশ ছাড়বেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ তাঁর দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের কাছে পরাজিত হন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়ের ব্যবধান ছিল ৭৫ হাজার ৮১৬ ভোট।
এই ফল প্রকাশের পর হুমায়ুন কবীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো এবং ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে বসবাসের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন এই নেতা। তবে তাঁর এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।
মুর্শিদাবাদে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আগে থেকেই আলোচনায় রয়েছেন হুমায়ুন কবীর। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর রেজিনগর এলাকার বেলডাঙ্গায় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
হুমায়ুনের বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদ নির্মাণের দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন। তাই কাজ শেষ না করে বিদেশে যেতে চান না। তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য, ২০২৮ সালের ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা।
মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। তবে নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে কি না, তা ভবিষ্যতের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, দুবাইয়ে ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসা নিয়ে বসবাস করতে চান তিনি। তাঁর ঘোষণায় বিদেশে গিয়ে বাকি জীবন কাটানোর ইচ্ছার কথাও উঠে এসেছে।
তবে গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার বিষয়টি তাঁর পরিকল্পনার অংশমাত্র। ভিসা অনুমোদন হয়েছে বা তিনি ইতিমধ্যে দুবাইয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
এ ছাড়া দুবাইয়ে বসবাসের পরিকল্পনা থাকলেও ভারতের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। একদিকে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং ২০২৯ সালের পর দুবাইয়ে চলে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথাও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
ফলে মসজিদ নির্মাণ শেষ করার পর তিনি পুরোপুরি রাজনীতি ছাড়বেন, নাকি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর দেশ ছাড়বেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়। তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
আরও পড়ুন:







