ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড় ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) ফের দিল্লির যন্তর মন্তরে মিছিল করার পরিকল্পনা জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং সংগঠনটির কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও আটক করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির নেতাদের বক্তব্য, ধরপাকড় ও বাধার মুখে তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা তাঁকে পদ থেকে সরানো না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটি।
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন—এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি ও অন্যান্য বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার ফলে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি পক্ষপাতমূলকভাবে ভোটার তালিকা পরিবর্তনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।
শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড, তল্লাশি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিছু এলাকায় জনসমাগম ও চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার পরও কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিল সিজেপি। এ নিয়ে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। শনিবারের ঘটনার পর রোববারের কর্মসূচি ঘিরেও রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিরোধী দলগুলোর একাংশ পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোববারের কর্মসূচিতে কতজন অংশ নেবেন এবং পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সিজেপির নতুন ঘোষণায় স্পষ্ট, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধের দ্রুত অবসান হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:







