News Ticker
221.png

এত কিছু করেও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২০

শেয়ার

শেয়ার

এত কিছু করেও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখার দাবি করেও ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, অথচ তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়নি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক সমাবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি। খবর রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।

ট্রাম্প দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তাঁর ভূমিকা নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ভূমিকা রেখেছেন এবং আরও দুটি সংঘাত—ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ—নিয়ে কাজ করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতারা তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে নোবেল কমিটির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে তাঁর দাবি। এসব বক্তব্যের সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি; কয়েকটি সংঘাতের ক্ষেত্রে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দাবিও বিতর্কিত।

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মানবাধিকার আইনজীবী ও সাবেক আন্তর্জাতিক বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

পুরস্কার ঘোষণার পর ট্রাম্প নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক ও বিব্রতকর’ বলে সমালোচনা করেন। নরওয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশটির জন্য এমন এক দাগ তৈরি করেছে, যা কখনো মুছে যাবে না।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার একটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত সিদ্ধান্তের কারণে তার মর্যাদা হারিয়েছে। তবে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ সমর্থন করে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নাভি পিল্লাই একজন দক্ষিণ আফ্রিকান মানবাধিকার আইনজীবী ও সাবেক আন্তর্জাতিক বিচারক। তিনি রুয়ান্ডার গণহত্যাবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ড নিয়ে তাঁর কাজও আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে। ২০২৬ সালের নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজকে পুরস্কারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ট্রাম্প অবশ্য পিল্লাইকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলে মন্তব্য করেছেন এবং তাঁর কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা ট্রাম্প আগেও একাধিকবার প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগকে শান্তি প্রতিষ্ঠার সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে তিনি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতার দাবি করেছেন।

তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচন করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের মূল্যায়ন করে এই কমিটি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো ব্যক্তি নিজের অর্জনের দাবি করলেই পুরস্কার পাওয়ার অধিকার তৈরি হয় না।

নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন এবং পুরস্কারের নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের কূটনৈতিক ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছেন, অন্যদিকে নোবেল কমিটি নাভি পিল্লাইকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারে অবদানের জন্য নির্বাচিত করেছে।

তবে ট্রাম্পের দাবি এবং বিভিন্ন সংঘাতের প্রকৃত পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্য, যুদ্ধবিরতির অবস্থা ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হলেও, পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ChannelNRB Footer