News Ticker
221.png

আটকের ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন ধ্রুব রাঠি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:১৪

শেয়ার

শেয়ার

আটকের ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন ধ্রুব রাঠি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে আটকের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল প্রায় ৬টার দিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকার বাসা থেকে ধ্রুব রাঠিকে আটক করে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখার সদস্যরা। তাকে আটক করার সময় দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছিল।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের পর ধ্রুব রাঠিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়। পরে রোববার ভোর প্রায় ৩টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। গুরুগ্রাম পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ এবং বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং ধ্রুব রাঠির নিজের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ধ্রুব রাঠি দাবি করেন, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি; বরং তিনি ঘটনাটিকে ‘অপহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় কী ঘটছে এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি যথাযথ তথ্য পাননি বলে অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের জন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তৎপরতা বাড়ায়। এ সময় রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করার খবর প্রকাশিত হয়।

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধের জেরে এই কর্মসূচি ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ChannelNRB Footer