News Ticker
221.png

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর ভয়ংকর তাণ্ডব, দুই শিশু ও অন্তঃসত্ত্বাসহ একসঙ্গে ৮ জনকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৪

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর ভয়ংকর তাণ্ডব, দুই শিশু ও অন্তঃসত্ত্বাসহ একসঙ্গে ৮ জনকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে একটি বাড়িতে বন্দুকধারীর গুলিতে দুই শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীও রয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও নিহত হয়েছেন। ফলে হামলাসহ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে শহরের পেরি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। 

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত আটজনের বয়স এক বছর থেকে ৫১ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে সাতজনের সঙ্গে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। অপরজন ছিলেন পরিবারের পরিচিত এক নারী।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে শিশু এবং এক বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশু। এ ছাড়া ২৪ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন, যিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অন্য নিহতদের মধ্যে ৪৪ ও ৫১ বছর বয়সী দুই নারী, ৩৭ বছর বয়সী এক নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই তরুণ রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ এখনো নিহতদের সবার আনুষ্ঠানিক পরিচয় প্রকাশ করেনি। পরিবারের সদস্যদের অবহিত করা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পরিচয় প্রকাশের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৪টা ৫০ মিনিটে গুলির শব্দ শনাক্তকারী একটি ব্যবস্থার সতর্কবার্তা পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়।

এর আগে ওই বাড়ির কাছে দুই নারীকে আসতে দেখা যায়। প্রতিবেশীর দরজার ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ও অডিও বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই দুই নারীকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় বাড়িটির দরজায় কড়া নাড়তে দেখা যায়। তাঁরা প্রতিবেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণেরও চেষ্টা করেন।

পুলিশের ধারণা, ওই সময় বন্দুকধারী বাড়ি থেকে বের হয়ে তাঁদের গুলি করেন। পরে দুই নারীকে বাড়ির বাইরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এরপর বিশেষায়িত পুলিশ দল বাড়িটিতে প্রবেশ করে। সেখানে নিচতলায় দুই শিশুর মরদেহ এবং সিঁড়ির কাছে ও ওপরতলায় অন্যদের মরদেহ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় তলায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

এরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স ৪৫ বছর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজের গুলিতেই মারা গেছেন।

ঘটনাস্থল থেকে তাঁর নামে নিবন্ধিত একটি .৪০ ক্যালিবারের হ্যান্ডগান উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে কেন তিনি পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের লক্ষ্য করে এমন হামলা চালিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে। নিহতদের মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করে ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

পুলিশপ্রধান লোরাহ জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা বাড়ির ভেতর থেকে আর কোনো নড়াচড়া বা সাহায্যের আবেদন শুনতে পাননি। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর বিশেষায়িত দল বাড়িতে প্রবেশ করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আর কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। অভিযানের সময় শোনা কিছু শব্দ কৌশলগত অভিযানে ব্যবহৃত ফ্ল্যাশব্যাংয়ের কারণে হয়ে থাকতে পারে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এরি শহরের মেয়র ডারিয়া ডেভলিন। তিনি নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনার পর পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব করার মতো কোনো কথা নেই।

পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোও শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য, দুই শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর প্রাণহানিতে শহরজুড়ে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, বন্দুকধারীর সঙ্গে নিহতদের বিরোধ ছিল কি না এবং ঘটনার আগে বাড়িটিতে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

ChannelNRB Footer