ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিরাজ করছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় যন্তর মন্তরসহ মধ্য দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে এই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখা হয়। শনিবারের বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আয়োজক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের ব্যারিকেডের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথে গাড়ি চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারও যন্তর মন্তর বন্ধ রাখার পাশাপাশি নতুন দিল্লি এলাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপের পরিকল্পনা নেয় পুলিশ। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের মূল দাবি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে মৃত, স্থানান্তরিত ও অন্যান্য কারণে অযোগ্য হয়ে পড়া ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ ও তার বিপরীতে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল। অন্য কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আটক ব্যক্তির সংখ্যা আরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়। পরে তাঁদের কয়েকজনকে আদালতের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের একাংশকে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না দেওয়ায় দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট জমায়েত ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। রেলস্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল ও বিমানবন্দরের দিকে যাতায়াতকারীদের হাতে বাড়তি সময় রাখার পরামর্শ দিয়েছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ।
বিক্ষোভের আগে মেট্রো ও রেল পরিষেবায়ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এসব পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধের বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তবে সব পরিবহন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে—এমন দাবি করার মতো নিশ্চিত তথ্য নেই। যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা ও আটকের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনটির নেতারা নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে জবাবদিহির দাবিতে অনড় রয়েছেন।
অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ আয়োজন এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। ফলে আন্দোলনকারীদের দাবি এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অবস্থানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকা, সড়ক ও প্রতিবাদস্থল ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন। বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে যাতে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:







