News Ticker
221.png

জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিহত ১৩৯

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:১৯

শেয়ার

শেয়ার

জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিহত ১৩৯
ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নৌকাটিতে নারী ও শিশুসহ তিন শতাধিক মানুষ ছিলেন। দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচেছেন অন্তত ৮২ জন। তাঁদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে জিবুতির উত্তরাঞ্চলে গুহেরে এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। 

আইওএমের প্রাথমিক তথ্যে নৌকাডুবিতে ১০৯ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮৪ জন।

প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া ১০৯ জনের মরদেহের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী এবং ১৫ জন শিশু ছিল। শিশুদের মধ্যে নয়জন মেয়ে ও ছয়জন ছেলে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ বেঁচে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ৩০৫ জন অভিবাসী ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই উন্নত জীবিকা ও কর্মসংস্থানের আশায় আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে যাচ্ছিলেন।

জিবুতির উত্তরাঞ্চলের ওবক শহরের কাছাকাছি গুহেরে উপকূলে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাডুবির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।

প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আইওএমের কর্মীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জীবিতদের জরুরি সহায়তা, চিকিৎসা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর জন্য অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ ব্যবহার করছেন। জিবুতি থেকে ইয়েমেনের মধ্যবর্তী বাব আল-মান্দেব প্রণালি এই যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।

কর্মসংস্থানের অভাব, দারিদ্র্য, সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জীবিকা হারানোর আশঙ্কা—এসব কারণে অনেক মানুষ ঝুঁকি নিয়েও এই পথে পাড়ি জমান।

কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা, অনিরাপদ যাত্রা এবং মানবপাচারকারীদের তৎপরতা এ পথকে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। সমুদ্রের মাঝপথে নৌকা ডুবে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীদের বেঁচে ফেরার সুযোগ থাকে না।

ইয়েমেনের চলমান অস্থিতিশীলতা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অভিবাসন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আইওএম জানিয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে আসা মানুষের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইয়েমেনমুখী এই অভিবাসনপথে ৯০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে এই পথে যাত্রা করা মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক নৌকাডুবি আবারও এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রাণহানির ঘটনায় মানবিক সহায়তা এবং নিরাপদ অভিবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।ত

নৌকাডুবির পর জিবুতির কর্তৃপক্ষ এবং আইওএম যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি জীবিতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আইওএমের জিবুতি মিশনের প্রধান আলেকজান্দ্রে কোইসাক এ ঘটনাকে প্রাণহানির এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ যাত্রাপথ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ChannelNRB Footer