News Ticker
221.png

মণিপুরে ফের সহিংসতায় নিহত ৯, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২৭

শেয়ার

শেয়ার

মণিপুরে ফের সহিংসতায় নিহত ৯, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ১৪টি বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর রাতে কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ৪২ বছর বয়সী কুকি নারী ডমখোনেই টাউথাং নিহত হন। তিনি পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন।

পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চাসাদ পুলিশ স্টেশনের কাছে কথিত অবৈধ বাংকার অপসারণের অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ওই নারীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একাধিক স্থানে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এরপর কামজং, কাংপোকপি ও উখরুল জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার খবর পাওয়া যায়। কয়েকটি ঘটনায় নাগা সম্প্রদায়ের গ্রামরক্ষী ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। একটি পৃথক হামলায় গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তিও নিহত হন। তবে সব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

সহিংসতার মধ্যে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সদস্যদের অন্তত ১৪টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চাসাদ এলাকায় পুলিশ স্টেশনের আশপাশেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কামজং জেলা প্রশাসন চাসাদ পুলিশ স্টেশনের ৪০০ মিটারের মধ্যে জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে।

এদিকে, কাংপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছে স্থানীয় সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি (CoTU)। সহিংসতা ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কামজং ও কাংপোকপি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্ত করছে।

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি সংযম প্রদর্শন, সংলাপের পথ অনুসরণ এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মণিপুরে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘদিনের জাতিগত বিভাজন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট এবং বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের সীমাবদ্ধতা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর ২৫ জুন ২০২৬-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, রাজ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন কঠিন হতে পারে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস এবং নির্বাচনের আগে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে রাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস, প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ২০২৬ সালেও কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সংঘাত দেখা দিয়েছে।

ChannelNRB Footer