News Ticker
221.png

মক্কা ও মদিনা বাদে সৌদির আকাশসীমায় প্লেন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা হুথিদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২৯

শেয়ার

শেয়ার

মক্কা ও মদিনা বাদে সৌদির আকাশসীমায় প্লেন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা হুথিদের
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে বিমান সংস্থা, যাত্রী ও বিমান চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নতুন করে সতর্ক করেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর রোববার (১১ অক্টোবর) এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা তাদের বাহিনীর সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আওতাভুক্ত। তবে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দরকে এই হুঁশিয়ারির বাইরে রাখা হয়েছে। বিমান সংস্থা, বিমানকর্মী, বিশেষজ্ঞ ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

হুথিদের এই সতর্কবার্তার আগে সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হতাহতের এই ঘটনা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। বিমানবন্দরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতিতে হুথিদের নতুন সতর্কবার্তা আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা তাদের বাহিনীর অভিযানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্কবার্তাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে সৌদি আরবের বিমানবন্দর বা আকাশসীমা ব্যবহার করলে বিমান, যাত্রী ও কর্মীদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির দায় তারা নেবে না। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

তবে হুথিদের এ বক্তব্য তাদের নিজস্ব অবস্থান ও হুমকির অংশ। সৌদি আরবের সব আকাশপথে বাস্তবে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে—এমন কোনো সার্বিক সিদ্ধান্ত এর ভিত্তিতে টানা যায় না।

সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশটির বিমানবন্দর ও আকাশসীমায় নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচি, রুট পরিবর্তন এবং যাত্রীদের যাতায়াতে প্রভাব পড়তে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) ৯ অক্টোবর হালনাগাদ করা নিরাপত্তা নির্দেশনায় সৌদি আরবের আকাশসীমার নির্দিষ্ট কিছু অংশে উড়োজাহাজ পরিচালনা না করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে জেদ্দা ফ্লাইট ইনফরমেশন অঞ্চলের অন্যান্য অংশে চলাচলের ক্ষেত্রেও সতর্কতা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে।

সংস্থাটির মূল্যায়নে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা এবং ভূপাতিত অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বিমান সংস্থাগুলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বেসামরিক বিমান চলাচল এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়লে শুধু সৌদি আরব নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ChannelNRB Footer