পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন।
রোববার (১১ অক্টোবর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার (এসপি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা উপ-পুলিশ সুপার (ডিএসপি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (এসএইচও) মাঠপর্যায়ে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শহরের কোথাও ব্যানার টাঙানো বা জনসমাগম হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া রেড জোনে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় রেঞ্জার্স সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে।
কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তাঁর সমর্থকেরা রাজধানীমুখী কর্মসূচির পরিকল্পনা করছেন। পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বিরোধও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, প্রাদেশিক সরকার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যথাযথ সমন্বয় করছে না। তবে পিটিআই এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে একে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে সম্ভাব্য বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারির ফলে জনসমাগম, মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। ডন পত্রিকার ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীতে দুই মাসের জন্য জারি করা আদেশে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জনসমাগম এবং জনসমক্ষে মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রেড জোনসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। রেড জোনে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, প্রশাসনিক স্থাপনা ও বিদেশি দূতাবাস রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে কোনো দল বা গোষ্ঠী জমায়েতের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোন ধরনের জমায়েত বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আদেশের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রবেশপথ ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে রেড জোনে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও ইসলামাবাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে নিরাপত্তা জোরদার এবং বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানোর তথ্য জানানো হয়েছিল।
পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নতুন নয়। তবে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি, প্রাদেশিক সরকার ও কেন্দ্রের বিরোধ এবং পিটিআইয়ের সম্ভাব্য রাজধানীমুখী কর্মসূচি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে, পিটিআই নেতৃত্ব জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এবং এটিকে রাজনৈতিক অধিকার ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী বলে দাবি করেছে।
এ অবস্থায় রাজধানীতে রেড অ্যালার্ট ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা কত দিন বহাল থাকবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর পরবর্তী কর্মসূচি এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর পরিস্থিতির গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় ইসলামাবাদের বাসিন্দা ও রাজধানীতে যাতায়াতকারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তল্লাশি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কিংবা সাময়িক পথ পরিবর্তনের কারণে যাত্রায় অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
নাগরিকদের প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা, নিষিদ্ধ সমাবেশ এড়িয়ে চলা এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:







