News Ticker
সর্বশেষ
‘শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না’ - মাহদী আমিন মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ-আগুনে ৪ মামলা, আসামি সাড়ে ১০ হাজার আন্দোলনে সহিংসতা-ভাঙচুর করতে ভাড়ায় লোক নিয়োগ হয়েছে, বলছেন শ্রমিক নেতারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধনে তৈরি পোশাক খাতে কিছু মালিক ও শ্রমিক নেতা অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করছে - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘নতুন যুদ্ধ আগের চেয়েও দীর্ঘ হতে পারে’, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা বারে মদ্যপান, প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধের পর হেরোইন খুঁজতে টঙ্গীতে যান তাহসিফ ৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক এল নিনোর ভয়াবহ তাণ্ডব মোকাবিলায় বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
221.png

সাগর লক্ষ্য করে উত্তর কোরিয়ার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫০

শেয়ার

শেয়ার

সাগর লক্ষ্য করে উত্তর কোরিয়ার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়া থেকে সাগর অভিমুখে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের আশপাশের এলাকা থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ এই উৎক্ষেপণকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের (জেসিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়। তবে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, সে বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।

অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রায় ১৭ মিনিটের ব্যবধানে নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে প্রথমটি প্রায় ২২০ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয়টি ৯১০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে।

জাপানের কর্মকর্তারা জানান, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সাগরে পতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উৎক্ষেপণগুলোর প্রকৃত ধরন ও উড্ডয়নপথ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে বিশ্লেষণ চলছে।

সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য নতুন উৎক্ষেপণের বিষয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধরন, সক্ষমতা এবং উড্ডয়নপথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফলে সব ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ এই পদক্ষেপের কয়েক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পরিচালনা করে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ওই পরীক্ষার তদারকি করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক উৎক্ষেপণ সিউলের হাইপারসনিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়া হিসেবে শক্তি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে এটি উত্তর কোরিয়ার ঘোষিত উদ্দেশ্য নয়; বরং দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ওই পরীক্ষাকে হাইপারসনিক অস্ত্রব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করে।

উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবে দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সর্বশেষ উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টার জন্য সহায়ক নয়। সিউল পিয়ংইয়ংকে এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

জাপানও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পাশাপাশি দুই কোরিয়ার মধ্যে সীমান্তসংক্রান্ত বিরোধও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অসামরিকীকৃত সীমান্ত এলাকায় (ডিএমজেড) স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘ কমান্ডের যৌথ তদন্তে ওই এলাকায় উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়। তবে পিয়ংইয়ং এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ তুলেছে।

এদিকে, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। দুই কোরিয়ার মধ্যেও সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত। এমন পরিস্থিতিতে একের পর এক সামরিক পরীক্ষা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

ChannelNRB Footer