News Ticker
221.png

ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ৪

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭

শেয়ার

শেয়ার

ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ৪
ছবি: সংগৃহীত

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল। শক্তিশালী বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ফ্লোরিডাসহ উপসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় দেড় লাখের কাছাকাছি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার, সড়ক পরিষ্কার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিন এলাকার কাছে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াস। আঘাত হানার সময় ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল অঞ্চলসহ উপসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে, বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কিছু স্থাপনার ছাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে স্থলভাগের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে এর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত থাকে।

ঝড়ের কারণে ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার পর্যন্ত রাজ্যটিতে ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল।

এর মধ্যে এসকাম্বিয়া, সান্তা রোসা ও ওয়ালটন কাউন্টিতে বিদ্যুৎবিভ্রাটের প্রভাব বেশি দেখা গেছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের লাইন মেরামত এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা।

ইসাইয়াসের প্রভাবে ফ্লোরিডার পাশাপাশি আলাবামা ও জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং টর্নেডোর আশঙ্কা তৈরি হয়। উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে নিচু অঞ্চলগুলোতে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোনো কোনো এলাকায় জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। রাস্তার ওপর পড়ে থাকা গাছ সরানো, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্লোরিডা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তার উদ্যোগও নিয়েছে। তবে ঝড়ের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়লেও এর রেখে যাওয়া ক্ষত কাটিয়ে উঠতে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের আরও সময় লাগতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ChannelNRB Footer